,
আমাদের রামু
  •  
  • কক্সবাজার জেলা
    • কক্সবাজার সদর
    • উখিয়া
    • কুতুবদিয়া
    • চকরিয়া
    • টেকনাফ
    • পেকুয়া
    • মহেশখালী
  • পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • বান্দরবান
    • রাঙ্গামাটি
    • খাগড়াছড়ি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
    • রাজশাহী
    • সিলেট
  • মতামত
    • সম্পাদকীয়
    • গোলটেবিল বৈঠক
    • ধর্মকথা
    • সাক্ষাৎকার
    • তারুণ্যের লেখালেখি
    • ছড়া ও কবিতা
    • কলাম
    • সাধারণের কথা
    • অনলাইন ভোট
  • বিশেষ প্রতিবেদন
    • কীর্তিমান
    • প্রতিভা
    • ঐতিহ্য
    • অবহেলিত
    • পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব
    • শেখড়ের সন্ধান
    • প্রতিষ্ঠান
  • রাজনীতি
    • আওয়ামীলীগ
    • বিএনপি
    • জাতীয়পার্টি
    • রাজনৈতিক দল সমূহ
    • ছাত্র রাজনীতি
  • নির্বাচন
    • স্থানীয় সরকার
    • সংসদ
    • ইসি
  • শিল্প-সাহিত্য
    • কবিতা
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • আর্ট
    • চিঠি
    • ছড়া
    • প্রবন্ধ/নিবন্ধ
    • সংবাদ
  • বিবিধ
    • প্রধান খবর
    • রামু প্রতিদিন
    • পর্যটন
      • বৌদ্ধ ‍বিহার
      • স্থাপনা
      • প্রাকৃতিক
    • চাকরির খবর
    • শিল্প-সাহিত্য
    • সংস্কৃতি
    • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
    • উন্নয়ন
    • সাংস্কৃতিক
    • মানচিত্রে রামু
    • শিক্ষাঙ্গন
    • শিক্ষা
    • রামু তথ্য বাতায়ন
    • সমস্যা ও সম্ভাবনা
    • আমাদের রামু পরিবার
    • অপরাধ
    • আইন-আদালত
    • মন্ত্রী কথন
    • স্বাস্থ্য
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  •  
  • কক্সবাজার জেলা
    • কক্সবাজার সদর
    • উখিয়া
    • কুতুবদিয়া
    • চকরিয়া
    • টেকনাফ
    • পেকুয়া
    • মহেশখালী
  • পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • বান্দরবান
    • রাঙ্গামাটি
    • খাগড়াছড়ি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
    • রাজশাহী
    • সিলেট
  • মতামত
    • সম্পাদকীয়
    • গোলটেবিল বৈঠক
    • ধর্মকথা
    • সাক্ষাৎকার
    • তারুণ্যের লেখালেখি
    • ছড়া ও কবিতা
    • কলাম
    • সাধারণের কথা
    • অনলাইন ভোট
  • বিশেষ প্রতিবেদন
    • কীর্তিমান
    • প্রতিভা
    • ঐতিহ্য
    • অবহেলিত
    • পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব
    • শেখড়ের সন্ধান
    • প্রতিষ্ঠান
  • রাজনীতি
    • আওয়ামীলীগ
    • বিএনপি
    • জাতীয়পার্টি
    • রাজনৈতিক দল সমূহ
    • ছাত্র রাজনীতি
  • নির্বাচন
    • স্থানীয় সরকার
    • সংসদ
    • ইসি
  • শিল্প-সাহিত্য
    • কবিতা
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • আর্ট
    • চিঠি
    • ছড়া
    • প্রবন্ধ/নিবন্ধ
    • সংবাদ
  • বিবিধ
    • প্রধান খবর
    • রামু প্রতিদিন
    • পর্যটন
      • বৌদ্ধ ‍বিহার
      • স্থাপনা
      • প্রাকৃতিক
    • চাকরির খবর
    • শিল্প-সাহিত্য
    • সংস্কৃতি
    • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
    • উন্নয়ন
    • সাংস্কৃতিক
    • মানচিত্রে রামু
    • শিক্ষাঙ্গন
    • শিক্ষা
    • রামু তথ্য বাতায়ন
    • সমস্যা ও সম্ভাবনা
    • আমাদের রামু পরিবার
    • অপরাধ
    • আইন-আদালত
    • মন্ত্রী কথন
    • স্বাস্থ্য
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
আমাদের রামু
ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন

পুলিশের দেওয়া তথ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন, বাড়ছে রহস্য

রংপুরে স্কুলশিক্ষকসহ ৪ খুন

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিভাগ অপরাধ, প্রধান খবর, রংপুর
0
রংপুরে ৪ খুন: শিক্ষক পরিবারের লাশ পড়েছিল ছাদে-সিঁড়িতে-ঘরে
Share on FacebookShare on Twitter

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিহতদের মুখের কাছে পাওয়া তরল পদার্থ কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল বার্নের কারণে নয়, মরদেহ পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মুখের রং ও চেহারায় এমন পরিবর্তন হয়েছে। তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস।

লাশের মুখ তরল পদার্থ বা এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে— এমন গুঞ্জনেরও কোনো সত্যতা ময়নাতদন্তে মেলেনি দাবি করে তিনি বলেন, কয়েকদিন মরদেহ পড়ে থাকার কারণে মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার মতো দেখিয়েছে। তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি।

ময়নাতদন্তের সময় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে বলে জানান এই চিকিৎসক।

এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে তার চোখ বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

কতদিন মরদেহ পড়ে থাকলে এমন বীভৎস চেহারা ধারণ করতে পারে, তা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি। তবে পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য জানিয়েছেন এবং মামলার এজাহারে থাকা তথ্য অনুযায়ী চারজন খুনের পর এবং ময়নাতদন্তের আগ পর্যন্ত তাদের মরদেহ সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৫২ ঘণ্টা পড়ে ছিল।

শার্ট বিতর্কে আসামির বাবা ও পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে অমিল

কাকতালীয়ভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের চারজন, অভিযুক্ত দুই আসামি, আসামি গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবাই একই ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।

এমনকি আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরনে থাকা শার্ট এবং গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনের শার্ট একই রকম হওয়ায় অনেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন। তবে পুলিশের দাবি, একই ধরনের শার্ট আলাদা ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে।

আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি তো জানি না কোনো পুলিশের পরনে কী রকম কাপড় ছিল। কিন্তু আমি যখন আমার ছেলেকে ওর কাকার বাসা থেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি— তখন ওর পরনে ঘিয়া কালারের (সোনালী, অফ-হোয়াইট বা হালকা হলুদ-বাদামী রঙ) একটা গেঞ্জি ছিল। ওই সময়ে আমি তাকে অন্য কোনো কাপড়ও দেইনি।

নিজের শার্টের সাথে আসামির শার্টের মিল থাকা নিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, এটা আড়ংয়ের শার্ট। আড়ং এক মডেলের এক ডিজাইনের এক রঙের একটা শার্ট তৈরি করে না, এটা হাজারটা হতে পারে। আপনারা (সাংবাদিকেরা) চাইলে আড়ংয়ে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন, এই শার্ট আমি কবে কিনেছি।

তিনি আরও বলেন, আমার ফোনে এখনো আসামির ছবি আছে। আমরা যখন তাকে নিয়ে আসি তখনও তার পরনে আমার পরনে থাকা একই রকম শার্ট ছিল। শার্টের বিষয়ে আমাদের অবস্থান একদম ক্লিয়ার। আমরা তাকে (সিদ্ধার্থ) যেভাবে হেফাজতে নিয়েছি সেইভাবে ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিল এবং আদালতে ওইভাবেই সোপর্দ করেছি।

ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের বের হওয়ার সময় নিয়েও বিতর্ক

পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ছাদে আসে বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে। এই দুজন ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল, সেখানে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা করে তারা। পরে ওই বাসায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান শেষে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এবং সেগুলো নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। পরে অভিযুক্তদের দেখানো মতে সেসব আলামত জব্দ করে পুলিশ।

পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বাবা ও মায়ের বক্তব্যে সময় নিয়ে গরমিল থাকার তথ্য মিলেছে।

আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১২টার সময় আমার ছেলে বাসায় ভাত খায়। পরে বাইরে বের হয়ে পাশের বাসায় সীমান্তের কাছে যায়। সেখানে রাতে থাকার কথা ছিল তার। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তদের বাসায় সিদ্ধার্থ রাতে থেকেছে। শনিবার রাত ৩টার দিকে সিদ্ধার্থকে তার কাকার বাসা থেকে পুলিশের কাছে তুলে দেই। এর আগে শুক্রবার সকালে বাসায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাস্তা এবং দুপুর দেড়টার দিকে খাবার খায়।

তিনি আরও বলেন, এত বড় একটা হত্যার ঘটনা ঘটে গেছে— এটা সবার কাছে যেমন রহস্যজনক আমার কাছেও তাই মনে হচ্ছে। আমার সন্তানকে কোনো দিন দেখিনি সে নেশা করছে কিংবা রাস্তায় মাস্তানি করে বেরাচ্ছে। সে স্বর্ণের (জুয়েলার্স) দোকানে কাজ করতো, কিন্তু ঠিক মতো দোকানে যেত না।

প্রতিবেশী সীমান্ত চন্দ্র দাস রংপুর নগরীর সালেক মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন বলে জানান তার বাবা সুবাস চন্দ্র দাস। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছেলে বাসায় আসার পর সিদ্ধার্থ এসে দেখা করে চলে যায়। রাতে বাসায় থাকার যে দাবি বিনয় দাস করছেন, তা সঠিক নয়। আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য এসব মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে। আমার ছেলে নেশা করে না। সে (সীমান্ত) প্রতিদিন সকালে বের হয়ে যায় আর রাতে বাসায় ফিরে আসে।

আরেক আসামি মুগ্ধ দাসের মা সোনা রানী জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তার ছেলেসহ তিনি ও তার মা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। পরে মুগ্ধ তার নিজের ঘরে যায়। এর মধ্যে রাতের কোন সময় বের হয়, সেটা তার অজানা। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরে গিয়ে দেখেন মুগ্ধ নেই। দুপুর বেলা মুগ্ধ বাড়ি ফিরলে ফুটবল খেলতে যাওয়ার কথা জানায় তার মাকে।

মুগ্ধ দাসের বাবা কানু দাস আনুমানিক ১৫ বছর আগে আগে মারা গেছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মুগ্ধ, সে বড় ভাইয়ের মতো মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করতো।

সবার ফোন বন্ধ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়েও ধোঁয়াশা

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আসামিরা আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে সেজন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখেন।

এদিকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং ছেলেকে ফোন করেন। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অর্থাৎ চারজনের ফোনই বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন পূজা চক্রবর্তী।

মরদেহ উদ্ধারের দিন রাতে পূজা চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফোন দিছি। আমার দিদির ফোনেও ফোন ঢোকে না, দুঃখিত বলে। জামাইবাবুর ফোনেও ফোন ঢোকে না। ভাগনির ফোনেও ফোন ঢোকে না। আর প্রিয়ম যে ক্লাস ফাইভে পড়ে ওর একটা বাটন ফোন আছে, সেটাতেও ফোন ঢোকে না। পরে এসে দেখি তালাবদ্ধ, পুরো বাসা অন্ধকার। কারো কোনো সাড়াশব্দ নেই।

এখন প্রশ্ন উঠেছে— চারটি ফোনের মধ্যে দুটি ফোন পুলিশ জব্দ করতে পারলে বাকি দুটি ফোন কোথায়, কার কাছে, কী অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

কিছুই জানেন না প্রতিবেশী আরেক শিক্ষক

প্রতিবেশীর সঙ্গে এমন নৃশংসতায় গোটা মাছুয়াপাড়া এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষক পরিবারের এমন করুণ পরিণতিতে সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত।

পুলিশের দাবি, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনের ছাদ থেকে আসামিরা গণপতির বাসার দ্বিতীয় তলার ছাদে যান। সেখানে বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে তারা দুজন ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয়েছে। এরপর ছাদের ওপরে সেই শিক্ষকের মরদেহ দুদিন পড়েছিল। যা পচন ধরায় দুর্গন্ধও ছড়ায়।

কিন্তু যে ভবনের বাসার ছাদ থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে এক নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা সম্পর্কে কিছুই আঁচ করতে পারেননি বলে জানান প্রতিবেশী আরেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিমাংশু কুমার মণ্ডল।

ঢাকা পোস্টকে হিমাংশু কুমার মণ্ডল জানান, দুই বছর ধরে ওই এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি সুন্দরগঞ্জের পূর্বপরিচিত ব্যক্তির বাড়ির দোতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তার এক ছেলে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাতে বাড়িতে ঢোকার প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে স্ত্রীসহ ঘুমিয়ে পড়েন। গরমের কারণে ফ্যান চালু থাকলে সাধারণত বাইরে থেকে কোনো শব্দ বা চিৎকার কানে আসে না। তাই সেদিন রাতে বা ভোরে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে বা ছাদে কোনো চিৎকার হলেও তা শুনতে পারেননি তারা।

স্বাভাবিকভাবে পরদিন শুক্রবার সকালে নিজেই গেটের তালা খোলেন। তবে গেট বন্ধ থাকলেও বাড়ির চারপাশের দেওয়াল খুব বেশি উঁচু না। অভিযুক্তরা যে কোনোভাবে ওই দেওয়াল টপকে নির্মাণাধীন তিনতলা ওই বাড়ির দোতলার ছাদে যেতে পারেন বলে ধারণা করেন হিমাংশু।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি তাদের কাউকে চিনি না। তারাও আমাকে চিনে না। তারা কী করত সেটাও আমার জানা নেই। আমার বিল্ডিং দিয়ে তারা যে ওই ছাদে গিয়েছে সেটাও আমরা জানি না। কারণ কখনো তাদেরকে ছাদে আসতেও দেখিনি।

ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল

শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনার রাতে পুরো বাসাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। মরদেহ উদ্ধারের দিন শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে খবর পেয়ে পুলিশ বাসাটিতে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পায়। পরে রাত ১টার দিকে স্থানীয় উজ্জ্বল কুমার বর্মন নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানকে ডেকে সংযোগটি সচল করা হয়।

উজ্জ্বল কুমার বর্মন জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাসাতে যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে উঠে তিনি দেখেন সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়— লাইনটা খোলা, খুলে ফেলা, নিউট্রাল খুলে ফেলা। বাসাবাড়ির লাইন লুজ হলে লাগা থাকে। স্পার্ক করে ঝুলে থাকে। কিন্তু এভাবে ডিসকানেক্ট হয়ে পড়ে থাকা তো কখনো দেখি নাই।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল কিনা এটা আমরা জানা নেই।

প্রসঙ্গত, রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়ির নিচতলার কাজ শেষ হয়নি। প্রায় দুই-তিন বছর আগে দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন তিনি

শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে বাসা থেকে তার পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহতরা হলেন- গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রোববার বিকেলে চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।

ঢাকা পোস্ট

শেয়ার করুন

  • Tweet
পূর্ববর্তী সংবাদ

হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

পরবর্তী সংবাদ

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

পরবর্তী সংবাদ
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

সর্বশেষ সংবাদ

মানসিক চাপ থেকে হতে পারে মাথাব্যথা, যেভাবে দূর করবেন

মানসিক চাপ থেকে হতে পারে মাথাব্যথা, যেভাবে দূর করবেন

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
রবিবার বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন ও প্রার্থী যারা

রবিবার বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন ও প্রার্থী যারা

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
প্রধান শিক্ষক: শুধু প্রশাসক নন একজন শিক্ষার্থীর আস্থার ঠিকানা

প্রধান শিক্ষক: শুধু প্রশাসক নন একজন শিক্ষার্থীর আস্থার ঠিকানা

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
রামুতে মাছুমিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসায় সততা স্টোর উদ্বোধন ও সততা সংঘ গঠিত

রামুতে মাছুমিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসায় সততা স্টোর উদ্বোধন ও সততা সংঘ গঠিত

সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
রশিদনগরে এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধিত করেছে পানির ছড়া এসএইচডি মডেল হাই স্কুল

রশিদনগরে এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধিত করেছে পানির ছড়া এসএইচডি মডেল হাই স্কুল

আগস্ট ২৯, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

Loading...
«সেপ্টেম্বর ২০২৬»
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩৪৫
৬৭৮৯১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
« আগষ্টঅক্টোবর »

© ২০২২ আমাদের রামু ডট কম কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

amader.ramu@gmail.com

আমরা রাষ্ট্র তথা এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরি। আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমরা আপসহীন থাকার চেষ্ঠা করি। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের অপর তিন স্তম্ভ- সংসদ, প্রশাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পর চতুর্থ স্তম্ভ। একটি কার্যকর রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনায় দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • ইউনিকোড কনর্ভারটার

প্রযুক্তি সহায়তায় ❤ ডেবস্ওয়্যার

ফলাফল নেই
সকল ফলাফল দেখুন
  •  
  • কক্সবাজার জেলা
    • কক্সবাজার সদর
    • উখিয়া
    • কুতুবদিয়া
    • চকরিয়া
    • টেকনাফ
    • পেকুয়া
    • মহেশখালী
  • পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • বান্দরবান
    • রাঙ্গামাটি
    • খাগড়াছড়ি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
    • রাজশাহী
    • সিলেট
  • মতামত
    • সম্পাদকীয়
    • গোলটেবিল বৈঠক
    • ধর্মকথা
    • সাক্ষাৎকার
    • তারুণ্যের লেখালেখি
    • ছড়া ও কবিতা
    • কলাম
    • সাধারণের কথা
    • অনলাইন ভোট
  • বিশেষ প্রতিবেদন
    • কীর্তিমান
    • প্রতিভা
    • ঐতিহ্য
    • অবহেলিত
    • পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব
    • শেখড়ের সন্ধান
    • প্রতিষ্ঠান
  • রাজনীতি
    • আওয়ামীলীগ
    • বিএনপি
    • জাতীয়পার্টি
    • রাজনৈতিক দল সমূহ
    • ছাত্র রাজনীতি
  • নির্বাচন
    • স্থানীয় সরকার
    • সংসদ
    • ইসি
  • শিল্প-সাহিত্য
    • কবিতা
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • আর্ট
    • চিঠি
    • ছড়া
    • প্রবন্ধ/নিবন্ধ
    • সংবাদ
  • বিবিধ
    • প্রধান খবর
    • রামু প্রতিদিন
    • পর্যটন
      • বৌদ্ধ ‍বিহার
      • স্থাপনা
      • প্রাকৃতিক
    • চাকরির খবর
    • শিল্প-সাহিত্য
    • সংস্কৃতি
    • বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
    • উন্নয়ন
    • সাংস্কৃতিক
    • মানচিত্রে রামু
    • শিক্ষাঙ্গন
    • শিক্ষা
    • রামু তথ্য বাতায়ন
    • সমস্যা ও সম্ভাবনা
    • আমাদের রামু পরিবার
    • অপরাধ
    • আইন-আদালত
    • মন্ত্রী কথন
    • স্বাস্থ্য

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.