দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইনুল ইসলাম মাতবর। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন তিনি। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় বিদ্যালয়টি হয়ে উঠেছে একটি পরিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা আর আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এক হৃদয়স্পর্শী বিদায় সংবর্ধনায়।
বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের সমাবেশে সবার আগে উপস্থিত হতেন প্রধান শিক্ষক হোসাইনুল ইসলাম মাতবর। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিতেন উপদেশমূলক বক্তব্য। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দিতেন তিনি। বিদায়বেলায় প্রিয় শিক্ষকের সেই স্মৃতিগুলো তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ফুলে ফুলে সজ্জিত লাল রঙের গাড়িতে করে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদায় জানান উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁকে বিদায় জানানোর দৃশ্য উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোতাহারুল জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার পিটিআইয়ের সাবেক সুপার মো. নাসির উদ্দীন, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, রামু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুল আবছার, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কক্সবাজার জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ চক্রবর্তী, চাকমারকুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়সাল কাদের, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কোম্পানী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নুরুল হক কোম্পানী, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক, জোয়ারিয়ানালা এইচএম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক সিকদার, ধেছুয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসমান গনি, মনসুর আলী সিকদার আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাশেম, জোয়ারিয়ানালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোছাইন, কক্সবাজার সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, রুম টু রিড বাংলাদেশের কক্সবাজার প্রকল্প ব্যবস্থাপক চিত্তপ্রিয় আচার্য্য, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি ফরিদুল হক, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাস্টার এনামুল হক, জারাইলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, রামু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, ইউপি সদস্য মো. রাসেল, সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমেদ এবং সাংবাদিক আহমদ ছৈয়দ ফরমান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মোস্তাফিজুর রহমান, সমীর চন্দ্র দে, নাজমুল হক, মো. ইকবাল হোসেন ও আব্দুর রহমান। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন তানিয়া মোস্তারী, সালমা আকতার, আজিজ উল্লাহ ও কামরুল হাসান। বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে মো. ইসমাইল, মোশাররফা খানম সায়মা, নাবিহা জামান, মিশফা আলম ও নিহা আকতার।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের সম্মানে মানপত্র পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক হোসাইন মোহাম্মদ বেলাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে রিদুয়ান হোসেন পবিত্র কোরআন, অধরা পাল দোলা গীতা এবং কলি বড়ুয়া ত্রিপিটক পাঠ করেন।
এর আগে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে গালিচা বিছিয়ে ও ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে মঞ্চে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ কর্মজীবনের সহকর্মী, প্রিয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় নেন হোসাইনুল ইসলাম মাতবর। তাঁর বিদায় শুধু একটি কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং একটি প্রজন্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্কের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।







