হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে আইন তৈরি করে। কিন্তু জনগণ সে আইন ও অধিকার সম্পর্কে অবহিত না থাকলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগ করে পণ্যের ভেজাল রোধ বা ক্রেতা ঠকানো বন্ধ করা সম্ভব নয়। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী-বিক্রেতা এবং উৎপাদনকারীদেরও সচেতন করতে হবে।
আজ বুধবার (২ নভেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’ বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি মো: আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, নবাগত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কক্সবাজার এর সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, জেলা তথ্য কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম তাহসিনুল হক, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুনোধ কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল (মাস্টার্স) মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জাফর উল্লাহ নূরীসহ জেলার বিভিন্ন ব্যবসা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সদস্য, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সেমিনারে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে ভোক্তা। তাঁরাও ভেজালের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আইনে ভোক্তাদের অধিকার হরণ হলে নানা রকম শাস্তির বিধান আছে। তবে কেউ যাতে এই আইনের অপব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করে এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি রাখতে হবে। সেমিনারে অনেক বক্তা পণ্যের মানের পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে সেবার মানের বিষয়ে তাঁদের অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ভোক্তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি বাজার ও বিপণিবিতানে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযান চালানোর আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে, তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও কাজ না হলে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সবশেষে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের মাঝে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সর্ম্পকে অবহিত করার আহবানসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।






