নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছবিনা বিবি, বয়স-৪৫, পেশায় এনজিও কর্মী। গত সোমবার সকালে যাচ্ছিলাম অফিসে। হঠাৎ ভেসে আসে “মেজবানি মাংস-মেজবানি মাংস” শ্লোগানে মাইকের শব্দ। অনেক দিন হয় মেজবানে যাওয়া হয় না। তাই মেজবানি মাংস খাওয়ার ইচ্ছা বহু দিনের। এসব ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্ত নিলেন দুপুরে জামান হোটেলে মেজবানি প্যাকেট কিনে বাসায় ফিরবেন।
যেমন ভাবা তেমন কাজ, দুপুরের খাবার খেতে বাসায় দেবার সময় মেজবানি মাংসের ১টি প্যাকেট ২শ টাকা নিয়ে কিনে নিয়ে ফিরলেন। ঘরে ফিরে প্যাকেট খুলতেই চক্ষু চড়ক গাছ। অল্প কিছু ভাত, পলিব্যাগে অল্প চনার ডাল আর একটি ব্যাগে মাংস। মাংসের প্যাকেট খুলেই ৩টি হাড়সহ ৮ টুকরা মাংস। এই অল্প মাংস দিয়ে ২০০টাকা নিল। এ কোন ধরনের প্রতারণা? কথা গুলি বলছিলেন চল্লিশোর্ধ এই এনজিও কর্মী।
জানা যায়, গত মাস খানিক ধরে প্রতি সপ্তাহে সোমবার মেজবানি গরুর মাংসের হাট বসিয়েছে- কক্সবাজারের হোটেল জামান। জামান হোটেলের খাবারের কাটতি বাড়াতে “মেজবানি মাংস” নাম দিয়ে এক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেয় তারা। কৌশলের অংশ হিসেবে শহরজুড়ে শুরু করে মাইকিং-পোষ্টারিংসহ গরু প্রদর্শনী। এত আয়োজনে ভোজন বিলাসীরা তো আর বসে থাকতে পারেনা। এমন ভাবে মাইকিং চলে জিবে যেন জল আসে। প্রথম দিন ক্রেতাদের ভালভাবে খাইয়ে মোটামোটি ক্রেতা সন্তুস্থ করতে সক্ষম হন জামান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরের সপ্তাহে থেকে শুরু করে নানা কৌশলী মেজবানি প্রতারণা। মাংস ২-৩ টুকরো ২-৩ টুকরো হাড় ও ২/১টি চর্বি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ২শ টাকা। জমে উঠেছে “মেজবানি মাংস” প্রতারণা ব্যবসা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অল্প দামের একটি গুরু কিনে এনে ফুলের মালা শোভিত গরুকে প্রদর্শনের জন্য হোটেলের সামনে এনে রাখা হচ্ছে। ২-১ দিন ধরে রাখার পর ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে গেয়ে জবাই করা হচ্ছে গরু। যেন বিয়ের অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে সমৃদ্ধ এক রাজকীয় কারবার। জবাইয়ের পর রান্নার সময় নেওয়া হচ্ছে নানা কৌশল। ওই মাংস একভাগ দিয়ে হবে চনার ডাল, একভাগ ঝোল, একভাগ চর্বি মিশ্রিত মাংস। কোন কিছুই যেন ফেলতে না হয়। মাংসকে স্বাদযুক্ত করতে মিশানো হচ্ছে টেষ্টিং সল্টসহ নানা রাসায়নিক দ্রব্য। এসব খেয়ে অনেকের অসুস্থ্যতার খবর পাওয়া গেছে।
শহরের গাড়ীর মাঠের শাহাব উদ্দীন জানান, গত সোমবার দুপুরের বাড়ী ফেরার সময় সাড়ে ৬শ টাকা ১কেজি মেজবানি মাংস প্যাকেট নিয়ে ঘরে ফেরে। প্যাকেট খোলে তিনি দেখেন চনার ডাল মিশ্রিত কিছু মাংস ও ঝোল। মাংসের টুকরোগুলি ১ জায়গায় আনলে ১ পোয়াও মাংসও হবে না।
এন্ডারসন রোডের গৃহবধু হাসিনা জানান, ২শ টাকা দিয়ে ১টা প্যাকেট কিনে এনে দেখেন তাতে ৪ টুকরো মাংস ও ৩ টুকরো হাড়সহ কিছু চর্বি দেখতে পাই। পরে ওই মাংস দিয়ে প্যাকেটের ভাতগুলিও খাওয়া সম্ভব হয়নি। এসব প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না। জামানের মালিক মেজবানি মাংসের নামে মানুষের সাথে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। এ প্রতারণা ছাড়া কিছু না।
সাকিব নামে এক ব্যাবসায়ী জানান, গত সোমবার দুপুরের মেজবানি গরু খেতে হোটেল জামানে যাই। গিয়ে দেখি ভাতের সাথে মাংস মিশ্রিত চনার ডাল অল্প ঝোল ও কয়েক টুকরো মাংস। যা দিয়ে এক প্লেট ভাত খাওয়া কঠিন। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে হাটিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এভাবে গরু জবাই করে মেজবানি দেওয়া আইন সম্মত কিনা জানতে চান এ ব্যবসায়ী।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, শহরের গরু জবাই হলে ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা নিতে হবে পশু সুস্থ কিনা। গরু গায়ের পৌরসভার সীল থাকতে হবে। অতপর পৌরসভা কর্তৃক মৌলভীর দ্বারা গরু জবাই করতে হবে। হোটেল মালিক এসব আইনের তোয়াক্কা না করে গরু জবাই করে মেজবানের নামে প্রতারণা করছে চলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে হোটেল জামানের ম্যানেজার সাইফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গরু জবাই করতে হলে পৌরসভার অনুমোদন লাগবে এ বিষয়ে তাদের জানা নেই। পশুর সুস্থ্যতা পরীক্ষা করতে, পশু ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করতে হয় এ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে জানান।
হোটেল জামান কর্তৃপক্ষ- পশু জবাইয়ে ক্ষেত্রে পৌরসভার আইন অমান্য করে প্রতি সপ্তাহে গরু জবাই করে মেজবানের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। এমন অভিযোগ ভোজন বিলাসী পৌরবাসির।






