বিগত ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে কুতুবদিয়া সমিতি কক্সবাজার আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় দ্বীপ কুতুবদিয়া রক্ষায় সুপার ডাইকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয়রা। বক্তারা বলেন, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এই দ্বীপকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
কুতুবদিয়া সমিতি কক্সবাজার এর সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান তালুকদারের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আক্তার কামাল আজাদ, সমিতির সহ সভাপতি সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার ও মাঃ বদরুদ্দোজা কুতুবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এজাবতুল্লাহ কুতুবী, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান কায়সার, অর্থ সম্পাদক কফিলউদ্দিন কুতুবী, সহ অর্থ মা: নুরুল আলম,মাহবুবুল হক,ফসিহ উদ্দিন, উপদেষ্টা আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ সিকদার, সাবেক কাউন্সিলর মনসুর আলম, মা: হামিদুর রহমান, মা: আনসার কুতুবী,
সেলিম উল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সাহেদ কুতুবী।
সভায় প্রধান দাবি হিসেবে কুতুবদিয়াকে চারপাশে ঘিরে সুপার ডাইকে (টেকসই বেড়িবাঁধ) নির্মাণের কথা জোর দিয়ে বলা হয়। দ্বীপবাসীর মতে, বর্তমান দুর্বল বেড়িবাঁধ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতি বছরই মানুষকে ভাঙন, প্লাবন ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হতে হচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, হাজার বছরের ভোগান্তি লাঘবে দ্বীপের উন্নয়ন ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ছনুয়া–ধুরুং সেতু নির্মাণ এবং মগনামা–বড়ঘোপ রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন। এতে করে কুতুবদিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
২৯ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণারও দাবি জানানো হয়।কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বসবাসরত কুতুবদিয়াবাসীকে স্থায়ী বন্দোবস্ত – পুনর্বাসনের দাবিও জানানো হয়।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে তারা বলেন, উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কুতুবদিয়ায় অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের কলেজ এবং মাদরাসা স্থাপন করা জরুরি। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দ্বীপের প্রধান সড়ক আজম রোডকে চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়, যাতে যান চলাচল সহজ হয় এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনা করা যায়।
অর্থনৈতিক খাতে বক্তারা বলেন, কুতুবদিয়ার প্রধান জীবিকা লবণ ও মৎস্য খাত। তাই লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত, মৎস্য ও কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
সভা শেষে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে, অন্যথায় কুতুবদিয়ার অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে ফলে মাতার বাড়ি, ধলঘাটা, মগনামা, রাজাখালী, ছনুয়া বড় ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।।






