হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পালিত হয়েছে ৬ষ্ট বিজিবি দিবস। মঙ্গলবার ২০ডিসেম্বর এ উপলক্ষে জোন সদর মাঠে বেলা ১টায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
প্রীতিভোজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাইক্ষ্যংছড়ি জোন ও ৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মোঃ আনোয়ারুল আযীম বলেছেন, বিজিবি বর্তমানে খুবই গতিশীল একটি বাহিনী। এ বাহিনীর নিজেদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি কমিটমেন্ট রয়েছে। এ কারণে দেশের একটি আস্থার বাহিনী হিসেবে পরিণত হয়েছে বিজিবি। আজকে দেশের যেকোনও প্রয়োজনে সেটা হরতাল-অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক বা সীমান্ত বিষয়ে হোক, যেকোনও ইস্যুতেই এ বাহিনী আস্থার সঙ্গে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে উপ-অধিনায়ক মেজর শফিকুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও প্রীতিভোজে অংশ নেন-উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: কামাল উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী, এলজিইডি প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহমদ, রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হারুন, প্রেসক্লাব উপদেষ্ঠা মাঈনুদ্দিন খালেদ, প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর নয়ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল, কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুগত সেবক বড়–য়া, নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: পলাশ চৌধুরী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল কালাম, বিএটিবির ব্যবস্থাপক হাফিজুল ইসলাম, বিজিবি স্কুল প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ নুরুল বাশার, ওয়ামীর প্রধান শিক্ষক ইয়াছিন, কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবাইরুল হক প্রমুখ।
এদিকে বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ব্যাটালিয়ন মসজিদে অধিনায়কসহ ব্যাটালিয়নের সর্বস্তরের সদস্যদের উপস্থিতিতে ফজরের নামাজের পর মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বিজিবি দিবসের কর্মসূচীর শুভ সূচনা হয়।
মিলাদ ও বিশেষ দোয়ার পর এ বাহিনীর ঐতিহ্যগত প্রথা অনুযায়ী ইউনিট কোয়ার্টার গার্ডে অধিনায়ক কর্তৃক বিজিবি পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং এ সময় একটি চৌকষদল কর্তৃক অধিনায়ককে সালাম প্রদান করা হয়।

বিজিবি দিবসের প্রেক্ষাপটে এ বাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী এবং মহাপরিচালক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিশেষ বাণী প্রদান করেন যা বিশেষ দরবারের মাধ্যমে অধিনায়ক কর্তৃক ব্যাটালিয়নের সকল সদস্যকে অবহিত করা হয়।
বিশেষ এ দরবারে অধিনায়ক দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তরক্ষাসহ বিজিবি’র অন্যান্য মৌলিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপারেশন উত্তরণের আওতায় পার্বত্য এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনের জন্য সকলকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সকলকে উপদেশ প্রদান করেন।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ইউনিট অভ্যন্তরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, বিজিবি দিবস উপলক্ষে বিওপি/ ক্যাম্প পর্যায়েও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহসহ বাহিনীর সদর দফতর পিলখানায় ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের পর এ বাহিনী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিলখানায় বিদ্রোহীরা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর নতুন নামে ও পোশাকে এ বাহিনী যাত্রা শুরু করে।






