দৈনিক শিক্ষা:
পাবলিক পর্যায়ের প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সমাপনী, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চাপের মধ্যে রেখে মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন করা যাবে না।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে এ সেমিনারে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্বের কোথাও প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ে আবদ্ধ রেখে বাস্তব জগত সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। প্রকৃতি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে আমরা তাদের মেধাবী করে তুলছি। দেশের প্রতি ভালোবাসা শেখাচ্ছি নাকি জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতি ঠেলে দিচ্ছি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ বলেন, আমরা ক্রমান্বয়ে সবাইকে স্কুলে নিয়ে আনতে পারছি। তবে তাদের এ শিক্ষাকে কতটা মানসম্পন্ন করতে পারছি সেটি ভেবে দেখা দরকার। কারো যেটুকু হজম করতে পারবে না তাকে যদি সেটি জোর করে দিলে কাজে আসবে না। একজন শিশুকে তার উপযোগী শিক্ষার বেশি যদি চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে সেটিও তার জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করার জন্য জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন, প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণি মর্যাদায় ক্রসপন্ডিং স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন ও দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ বিভিন্ন সুপারিশ প্রস্তাব করেন।
সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান আখতারের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিশ্বিবদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. গাজী সালেহ উদ্দিন, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক কে এম এনামুল হক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মো. সিরাজুল হল আলো, শিক্ষাবার্তার সম্পাদক এবং নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর এ এন রাশেদা, কুর্মিটোলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক (অব.) প্রমুখ।






