ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:
মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়েছে পেকুয়া উপজেলার প্রায় ২লক্ষাধিক মানুষ। ধারাবাহিক এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে মারাত্মক ভোগান্তিতে গ্রাহকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার গ্রাহক। নতুন সংযোগ, লাইন পরিষ্কার ও মিটার পরিবর্তন সহ নানান অযুহাতে উপজেলায় সকাল থেকে শুর করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। যার কারনে সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও সহ বিভিন্ন ধরনের অফিস আদালতের কার্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মিল কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণের।
পরিবর্তন পেকুয়া নামের একটি সেচ্চাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক ও পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় গ্রাহক সাইফুল ইসলাম বাবুল বলেন, পেকুয়া উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানেন না দিনে কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকে ! এব্যাপারে তাঁদের খেয়ালই নেই বললেই চলে ! কারণ বিদ্যুৎ না থাকা অর্থাৎ লোডশেডিং এখন তাদের সয়ে গেছে। বর্তমানে লোডশেডিং পেকুয়ায় নিয়মিত আর বিদ্যুৎ আসা মানে তাঁদের ভাগ্য ! বিনা নোটিশে বিদ্যুতের এমন কারসাজিতে তাঁরা বিকল্প পথে হাটতে বাধ্য হয়েছেন। ব্যয় একটু বেশি হলে তাতেই স্বস্থি তাঁদের।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিগত ডিসেম্বর মাসের ৩১দিনে তথা ৭৪৪ ঘন্টায় বিদ্যুৎ ছিল ৫১১ঘন্টা, আর ছিলনা ২৩৩ঘন্টা। বলা যায় ডিসেম্বরের ৩১টি দিনের মধ্যে প্রায় দশ পূর্ণ দিবস বিদ্যুৎ ছিলনা। একটানা দশদিন বিদ্যুৎ না থাকলেও সয়ে যাওয়া আমজনতা ঠিকই সয়ে যেত। কিন্তু ওই ২৩৩ঘন্টা বিদ্যুৎ মাসের প্রত্যেকটি দিনের বেলার একটি নিদিষ্ট অংশ নিয়ম করে ছিলনা। তাতেই ত্যক্ত বিরক্তির চরম পর্যায়ে পৌছে গেছে সাধারণ গ্রাহক। পল্লী বিদ্যুৎ পেকুয়া শাখার উপকেন্দ্রে রক্ষিত রের্কড রেজিষ্ট্রার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে চলতি জানুয়ারী মাসেও একই অবস্থা। উন্নতি হয়নি একফোটাও। বরং এই ১৬দিনে বিদ্যুৎ ছিলনা প্রায় ৬৪ঘন্টা। যা কিনা প্রায় আড়াইটি পূর্ণ দিনের সমান। এসব বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আগে গ্রাহকদের কোনভাবেই নোটিশও করেনি কর্তৃপক্ষ।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু আমাদের রামু কে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের কারণে পেকুয়ার জনগন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের পেকুয়া অফিস প্রধান খোরশেদ আলম আমাদের রামু কে বলেন, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের জন্য পেকুয়ায় একদিন পরপর দিনের বেলায় লাইন বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে এব্যাপারে গ্রাহকদের অফিসিয়ালি জানানো হয়নি।
পল্লী বিদ্যুৎ চকরিয়া অফিসের এজিএম আব্দু সামাদ আমাদের রামু কে বলেন, মাতারবাড়িতে নতুন সংযোগ তৈরী কাজ চলছে। তাই শুধু পেকুয়া নয় পাশ্ববর্তী আরো কয়েকটি উপজেলায় এ বিপর্যয় চলছে। খুব শীঘ্রই লাইন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে গ্রাহকদের কেন নোটিশ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসবের প্রয়োজন নেই। গ্রাহকদের তা মনে থাকেনা।






