মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়াঃ
ব্যর্থতাই একজন অাত্মবিশ্বাসীর পথ প্রদর্শক৷ নিরন্তর চেষ্টা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁচাতে পারে৷ অসফল ব্যার্থ ব্যাক্তিকে ভেঙ্গে পড়লে চলবেনা৷সফল ব্যাক্তিরা এটাকে ব্যার্থতা না ভেবে ভিন্নপথ বলে থাকেন৷ যেমনটা টমাস এডিসন ৯৯৯ বার ব্যার্থ হয়েও বলেন,অামি অাসলে ৯৯৯ পন্থায় চেষ্টা করেছি৷ শেষ পর্যন্ত ১০০০ বারে সঠিক পথ পেয়ে গেছি৷
সফলতার গল্প বলছি এ জন্য যে এটি মানুষকে স্বপ্ন দেখায়৷কাঙ্খিত স্বপ্ন অনুযায়ী অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগোতে পারলেই একজন একজন ব্যাক্তি সফলতার স্বর্ণ শিখরে অারোহন করতে পারে৷অার এ জন্যই সফল মানুষের গল্প বলা৷এতে একজন ব্যাক্তিও উপকৃত হলে অামার লেখা স্বার্থকতা পাবে৷প্রায় সকল বিখ্যাত ব্যক্তির প্রাথমিক কর্মজীন ছিল অনেক দূর্গম৷শুরুতে সেই দূর্গম পথকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়ে তা অতিক্রম করতে পেরেছেন বলেই অাজ ওনাদেরকে অনুসরন ও অনুকরণ করে অনেকেই উন্নতি করতে পেরেছেন৷
সফলতা যাদুর কাঠি নয় যে একজন ব্যাক্তিকে ছোঁয়ালে তিনি সফলতার শিখরে পৌঁছে যাবেন৷ বরং একজন অাত্মবিশ্বাসী ব্যাক্তিকে নিরন্তর চেষ্টা করে যেতে হবে৷ অাপনি নিজেকে সফলদের কাতারে দেখতে চাইলে সফল মানুষদের সম্বন্ধে জানুন এবং সাধনা করুন৷ সফলতার শিখরে পৌঁচানোর পূর্ব পর্যন্ত শতবাধা,বিপত্তিতে নিজেকে শান্ত রাখুন৷ দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকুন সামনের দিকে সফল অাপনি হবেনই৷ এতে কোন সন্ধেহ নেই৷ সফল হতে চাইলে সফলতার পেচনের কষ্টকে সঙ্গে রাখতে হবে৷ সকল সফল মানুষের সফলতার পেচনে পড়ে অাছে অনেক অক্লান্ত পরিশ্রম,ত্যাগ ও বহু অনিদ্রা৷ অধ্যাবসায়ের ফলে বহুদিনের চেষ্টা বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম৷ অামাদেরকে সফল মানুষের গল্প শুনলেই হবেনা,সেই সফল মানুষের ভিতরের অনুখূতি ও দৃঢ়তাকে সঙ্গি করতে হবে এবং নিজের প্রতিভাকে প্রকাশের ব্যাবস্থা ও করতে হবে৷
মানসিক শক্তির দৃঢ়তায় নিজেদেরকে এগিয়ে নিতে পেরেছেন বলেই অতিসাধারন পরিবারের অভাব অনটনের মাঝে ভ্লাদিমির পুতিন,বারাক ওবামা,নরেন্দ্র মোদি (বিস্তারিত অামার লেখা ‘ব্যাক্তিত্ব ও অাত্মবিশ্বাস’) রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছেন৷তা ছাড়া ব্যার্থতাকে কাজে লাগিয়ে নিক উডম্যান,স্টিভ জবস,রিচার্ড ব্রানসনের মতো অনেকেরই অাত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের ফলে শীর্ষে উঠে অাসা সম্ভব হয়েছে৷
ব্যর্থ ও অাত্মবিশ্বাসী অতি সাধারণ পরিবার থেকে শীর্ষ স্থান দখলকারী ব্যাক্তিদের সংক্ষিপ্ত কাহিনীঃ
লিওনেল মেসিঃ
১০নং জার্সি পরিহিত সেরা ফুটবলার “গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় পড়েছিলেন” ১১ বছর বয়সে তার এ রোগ হয়েছিলো,যার চিকিৎসা ছিল ব্যয়বহুল,পরিবার ছিল আর্থিক সংকটে। তার মা ছিলেন পরিচ্ছন্নতা(সুইপার/ঝাড়ুদার)কর্মী। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই মেসিই হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার।
অাব্রাহাম লিংকনঃ
অামেরিকার প্রেসিডেন্ট অাব্রাহামলিংকন এক সময় ছিলেন কাঠুরিয়া৷অসামান্য মেধা দায়িত্ব,কর্তব্যপরায়ণতা,ব্যাক্তিত্ব ও অাত্মবিশ্বাস ওনাকে অামেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে সাহায্য করে৷
মাওসেতুংঃ
নয়াচীনের প্রতিষ্ঠাতা মাওসেতুং ছিলেন গরিব মুদি দোকানির ছেলে৷সীমাহীন দারিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠা এই বিপ্লবী নেতার পড়ালেখা স্কুল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল৷নিজ কৃতিত্ব অধ্যবসায় ও অাত্মবিশ্বাসের জন্যে সমাজতন্ত্র ও দর্শন শা্স্ত্রের ক্ষেত্রে ওনার কৃতিত্ব ওনার সমালোচকরাও স্বীকার করেন৷
বিল গেটসঃ
বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি হওয়ার অাগে বিলগেটস ছিলেন একজন ব্যর্থ উদ্যোক্তা৷ প্রথমে ট্রাফ-ও-ডাটা নামে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল বিলগেটসের৷ মূলত ট্রাফ-ও-ডাটা ৮০০৮ নামে অ্যাপ যা ট্রাফিক টেপ পড়তে পারতো এবং সেই ডাটা প্রসেস করতো৷ যন্ত্রটির সমস্যা ছিল সঠিক ভাবে সব সময় কাজ করতোনা,যার কারণে ওনার সে উদ্যোগ ব্যার্থ হন৷
ব্যর্থতাকে বড় করে না দেখে পূর্ববর্তী ব্যাবসা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তিনি৷ ব্যার্থতা নির্ভুল ভাবে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়তে সহায়তা করে ছিল৷ এভাবেই মাইক্রোসফট বিশ্বের সব থেকে বড় পার্সোনাল কম্পিউটার অপারেটর হয়ে উঠে৷
পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রমের ফলে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী (সম্পদের পরিমানঃ৭২৭কোটি ডলার) ব্যাক্তি হন এবং তার বিলাস বহুল বাড়ী Xanadu 2.0 (The’Bill Gates House’) যেটা কম্পিউটার ও সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত মিউজিক এবং লাইটের ও লক্ষণীয় ব্যাবহার রয়েছে বাড়িটিতে৷
জেমস ডাইসনঃ
ভ্যাকুয়াম তৈরী জনিত বিষয়ে সব সময় ব্যাস্ত থাকতেন তিনি৷ কিন্তু তার সব প্রচেষ্টা ব্যার্থ হতে থাকে৷ পারিবারিক অনেক সমস্যা ও কষ্টের মধ্যে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিনি হতাশ হননি৷ প্রচুর অধ্যবসায়ের ফলে বিশ্বের সব থেকে নামকরা ব্যাগ লেস ভ্যাকুয়ামক্লীনার্স প্রতিষঠানের অধিকারী তিনি৷
ফুটবলের কিংবদন্তি পেলে,ম্যারাডোনা,রোনাল্ডো এ তিন জন্ই এক সময়ের বস্তির বাসিন্দা ছিল৷এদের সবার ছোট বেলা কেটেছে ময়লা ও ছেঁড়া জামা কাপড় গায়ে দিয়ে৷রোনাল্ডোর মা-বাবা এতোটাই গরিব ছিলেন তার জন্মের পর নাম রেজিষ্ট্রি করতে দু’দিন দেরী হয়৷
জয়সুরিয়াঃ
শ্রীলংকার বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট প্লেয়ার জয়সুরিয়ার বাবা ছিলেন একজন জেলে৷
ম্যাক্সিম গোর্কিঃ
বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম কৃতি পুরুষ ম্যাক্সিম গোর্কি কামার দোকানে ও জুতার দোকানে কাজ করেছিলেন৷
ডা.অাতিউর রহমানঃ
রাখাল বালক অাতিউর রহমান একসময় ‘রাখাল’ ছিলেন৷ খেয় না খেয়ে ওনার জীবন কাটতো৷ অন্যের দয়ায় পড়াশোনা করেছিলেন তিনি৷ এক সময়ের সেই রাখাল বালক এখন দেশের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর৷
নিজ নিজ প্রতিভা বিকশিত করার ক্ষেত্রে দারিদ্রতা ওনাদের জন্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি৷অাসুন ব্যর্থতাকে পথ প্রদর্শক মনে করে এগিয়ে যাই অাগামীর পথে৷৷
***********************************************************************************************************************
লেখকঃ মোঃদেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া
লাকসাম,কুমিল্লা৷






