বাতি ও আত্মক্ষয়
১
ঢেউয়ে, পাহাড় চূঁড়ায়, বনে-সমতলে
ছড়িয়ে আছে যে প্রেম!
কুড়িয়ে নিই-
ছায়াপ্রেম-রৌদ্রময় আর শীতল বহ্নিপ্রণয়
মিলে মিশে আছে আমাদের হৃদয়।
আমরা অখণ্ডের জাতি, অনন্তের জ্ঞাতি
ধ্যানী কৃষক, কর্মবীর
অশ্বত্থ ও ঘাসে একাকার থাকি আনন্দের বরে,
অনলের নীল শিখা প্রেমের সমিল অধরে।
আমরা মাটি ও মননে সহজাত।
২
আমরাও প্রেমে-কামে ঘামি
আনন্দ নন্দনের মিলন আঁখি মেলে
একাকার হই হৃদয়ে-কনকে,
আমরা সমূহ নিগূঢ় পরাণ
বনে ও বানে ভূ-দৃশ্যব্যাপী
ব্যাকুল মিলন তৃষ্ণা নিয়ে
গানে গানে জেগে থাকি।
পাখি ডাকি মন ময়না-টিয়া
হাঁসের চর আর সোজা সোনাদিয়া
ভ্রমণই জীবন নাকি
করবার কিছু বাকি?
৩
ভালো নেই গাছ, ভালো নেই মাছ, ভালো নেই
ভালো নেই জনে, ভালো নেই মনে, ভালো নেই
যেতে নেই দিন, যেতে নেই রাত, অচেতনে যেতে নেই
যেতে নেই প্রিয়, নীল উত্তরীয়, যেতে নেই
ফিরে চাও আঁখি, সর্বাঙ্গে মাখি, ফিরে চাও
ফিরে যাও ভুল, সাদা পাকা চুল, ফিরে যাও
ভালোবেসো মন, অরূপ ও রতন, আলো জ্বালো
যেতে নেই শান্তি, অমল কান্তি, দিব্য আলো
৪
নোনাঘ্রাণ আর রক্ত-মাংশ কাদা লাল
সাদা ফুল, হিজল-জারুল আর আমার
কালো বউ, রাঙা গাই ও সাদা দই
দু’ধারে সাজাই, আঁকি শান্তির পট।
পথ ঘাট আর প্রজাপতি, মাছ-নদী
গাছ, তার শাখায় শ্যামা ফিঙে দুটি-
হামাগুড়ি দেয়া সবুজ সৈন্য পতাকা
দ্রোহ ভরা প্রেম-পূর্ণিমা-শশী, খুশি
সাজাই শান্তির পট, নুতন পট।
আমি কালো মানুষ, সাদা দীর্ঘ সৈকত
বেলা আর ভূমি একাকার করে দেয়া জলন্ত
অঙ্গার, জেগে থাকা শঙ্খচিল সুস্বাদু ঝিনুক
ঘর ভুলে যাওয়া লাল কাঁকড়া আর বকুল
আহা ভালোবাসি, বাঁশি, রংধনু-মেঘরাগ
মেঘে মেঘে ভেসে যাওয়া সকালের ইতিহাস।
অমন আঁকি, সাজাই পট, অমল মোহন
সুর, উড়ন্ত সূর্য, গন্ধমাখা আলো, জীবনের ঘ্রান
আঁকি, গাই, ভালোবাসি, পাখি-ডানা স্বপ্ন প্রাণ…
৫
আকাশ জুড়ে আছে কাঁশফুল, আমার এক আকাশ
উর্ধ্বমুখে আকাশ, অখন্ড আকাশ, অনন্ত আকাশ
আমাদের এক আকাশ, অখন্ড আকাশ, মেঘযুক্ত
সাদা মেঘ, সাদা সাদা মেঘ, ভেসে বেড়ানো মেঘ
আকাশে আকাশে পাখিমেঘ, পাখিপ্রান
যে প্রানে পাখি ছিল, পাখি আছে, বন্ধ নয় যে প্রান
সেই প্রান এঁকে এঁকে যাই আকাশের গায়, ঘ্রান
ও গানে মোহন মিলন, এক হতে হতে একার্ণবের ধ্যান
ধ্যাণী প্রানসুত্র, প্রানজাল, প্রানপন এক অনন্ত আকাশ।







