একটা কাঠগোলাপের মৃত্যৃ
একটা কাঠগোলাপ আজ পিষ্ট হলো। একটা কাঠগোলাপের আজ মৃত্যু হলো আর কখনো সে ছড়াবে না সৌরভ আর কখনো সে আকঁড়ে ধরবে না তরুণীর খোঁপা। একটা কাঠগোলাপের আজ মৃত্যু হলো। পৃথিবী এক মুহুর্তের জন্যও থামেনি; সবকিছু চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। প্রতিদিনের মত আজও ছেলেটি, মেয়েটির উঠোনে গিয়ে বেল বাজাবে, জানান দিবে আগমনী। তরুণীটিও হয়তো টকটকে লাল লিপস্টিক দিয়ে সাজবে। আইসক্রিম মামা ক্রিংক্রিং করবে স্কুলের বাইরে। দোতলার গোবেচারা ছেলেটা, আজও হয়তো আড়চোখে দেখবে, শুকোতে দেয়া বৌদির লাল ব্রেসিয়ার। সব চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু, একটা অনিয়ম ঘটেই গেল।। একটা কাঠগোলাপ আজ পিষ্ট হলো, একটা কাঠগোলাপের আজ মৃত্যু হলো।
লাল রঙের ঘ্রাণ
কতটুকু পুড়তে দেখেছো জ্বলন্ত চিতা?
আগুনের চিটচিটে ঘ্রাণ কি ছুয়েছে
তোমায়?
হ্যাঁ, আমায় ছুঁয়েছে
তবে চিতার ঘ্রাণ নই,
তোমাদের ফিনকি দিয়ে উঠা
লাল রঙের ঘ্রাণ।
চিতা? সেতো ঢের ভালো
অন্তত নেকামিপনা নেই।
নেই সতীত্বের বাচ-বিচার।
লাল রঙ সেতো বিভীষিকা!
নেই তাতে আলোর চিহ্ন।
তাতে আছে কেবল আধাঁর,
এক সাগর আধাঁর।
লাশেদের ভীড়ে
যদি আবার টিভি পর্দায় ভেসে উঠে
বীভৎসতা
কেউ অন্ধ করে দিও আমায়।
লাল রক্তে যদি ভিজে যায় শার্ট কিংবা
পাঞ্জাবী!
কেউ বলো ওই শালিককে
উড়ে এসে যেন বসে আমার কার্ণিশে।
থাকুক সে দু’দন্ড
এই লাশেদের ভিড়ে তার আগমনি সুসংবাদ।
আদর
রাতগুলো আসে ক্যন্সারের মত
একটু একটু করে গিলে খায়
রাতগুলো আসে আগুনের মত
রোজ রাতে তাই ঝলসে যাই।
রাতগুলো আসে ঢেউয়ের মত
একূল হতে ওকূলে পাঠাই
রাতগুলো আসে দমকা হাওয়ার মত
অস্তিত্বের আঘাত জানায়।
রাতগুলো আসে সিগেরেটের মত
রোজ রাতে তাই জ্বালিয়ে যাই
রাতগুলো আসে বিভীষিকার মত
রোজ রাতে তাই প্রদীপ জ্বালাই।
দুঃখগুলো আসে প্রেমিকার মত
রোজ রাতে তাই আদর চাই
রাতগুলো আসে তোমার জন্য
রোজ রাতে তাই তোমাকে চাই।
*******************************************************************************************************************
শান্ত চৌধুরিঃ ছাত্র, চারুকলা অনুষদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।







