বাল্য বিয়ের বিশেষ বিধান কেবল মেয়েদের জন্য নয়, ছেলেদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। বাল্য বিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭ যাচাই–বাছাই করে এই বিধান করার সুপারিশ করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি সংসদে উত্থাপন করেন এই কমিটির সভাপতি রেবেকা মোমিন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বিলটি গত ৮ ডিসেম্বর সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। এরপর বিলটি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত বিলের ১৯ দফায় বলা হয়েছে, এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, কোনও বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনও নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশক্রমে এবং মাতা-পিতার সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে সম্পাদিত হলে,তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
এক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটি ‘কোনও বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনও নারীর’ শব্দগুচ্ছ বাদ দিয়ে ‘বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের’ এবং ‘মাতা-পিতা’ শব্দের পরিবর্তে ‘পিতা–মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের’ শব্দগুচ্ছ যোগ করার সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ সংসদ সংসদীয় কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করলে নারীর পাশাপাশি পুরুষের ক্ষেত্রেও বিশেষ প্রেক্ষাপটের বিধান প্রযোজ্য হবে।
ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ‘চাইল্ড ম্যারেজ রেসট্রেইন্ট অ্যাক্ট-১৯২৯’ বাতিল করে নতুন আইন করতে বিলটি সংসদে তোলা হয়।
প্রস্তাবিত আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স আগের মতো ১৮ বছর রাখা হলেও ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের সুযোগ রাখা হয়। এই বিধানের সুযোগে দেশে বাল্য বিয়ের প্রকোপ বেড়ে যাবে আশঙ্কা করে তা বাতিলের দাবি তুলেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, বিরোধিতাকারীরা বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞান। সমাজ বাস্তবতার কথা বিবেচেনায় রেখেই এই আইন করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।







