হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং মিরঝিরি গ্রামের অপহৃত আবুল বশর (২৫)’কে ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পর বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাতটায় রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়ার গহীন পাহাড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে মিরঝিরি গ্রামের হাজী লাল মিয়ার ছেলে। আবুল বশর একজন ক্ষুদ্র রাবার বাগান মালিক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর সকালে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিজ ঘরের দরজা ঙেগে আবুল বশর ও তার ভাই বাবুল মিয়াকে অস্ত্রের মূখে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু কিছুদূর নেওয়ার পর বাবুল মিয়াকে ছেড়ে দিলেও আবুল বশরকে তাদের সাথে গহীন অরণ্যে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার দুই ঘন্টা পর অপহৃত আবুল বশরের মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের নিকট সন্ত্রাসীরা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলেও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
অপহৃতের বড় ভাই বাদল হোসেন বলেন, অপহরণের ঘটনায় আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। এমন সময় বাইশারী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আমাদেরকে সাহস যোগায়। তিনি সম্ভাব্য গহীন পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে মুক্তিপণের টাকা ছাড়াই আমার ভাইকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
বাইশারী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ, উপপরিদর্শক আবু মুছা বলেন, অপহরনের পর থেকে বাইশারী পুলিশ একে একে ঈদগড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, বৈদ্যপাড়া, রিজার্ভ এলাকা, চেইঙ্গাবাজারে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মূখে আটক হওয়ার ভয়ে সন্ত্রাসীরা আবুল বশরকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অপহরণের ঘটনায় এই প্রথম মুক্তিপণ ছাড়া ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অন্তত ২৪জন লোককে অপহরণ করেছিলো সন্ত্রাসীরা। পরে তারা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হয়।






