মানব পাচারকারীর জন্য দেশের বর্তমান আইনে যে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মানব পাচার বন্ধে অপরাধীদের শাস্তি ১২ বছর জেল যথেষ্ট নয়, তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘নিরাপদ অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) ও র্যাব ফের্সেস যৌথভাবে সেমিনারটি আয়োজন করে।
র্যাবের ডিজি বলেন, ‘দেশের এক শ্রেণির অসাধু দালাল চক্র স্বল্প আয়ের মানুষদের টার্গেট করে বিদেশে পাচার করছে। এর সঙ্গে আর্ন্তজাতিক মানব পাচার চক্র জড়িত। পাচারের শিকার সাধারণ মানুষকে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন বন-জঙ্গলে জিম্মি করে রাখে। পাচারের শিকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের অনেকেই নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন. ‘এ চক্রটি প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অনেক নারীকেও বিদেশে পাচার করছে, তাদের পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করছে। আমাদের দেশের অনেক নিরীহ মানুষ নিজের জায়গা জমি বিক্রিকরে বিদেশ যায়। সেখানে গিয়েও তারা নির্যাতনের শিকার হয়। এমনকি অনেকে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। একারণে মানব পাচারকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
র্যাব প্রধান বলেন, ‘মানবপাচারের মতো এমন অমানবিক বিষয় থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। এর মূল কারণ সচেতনতার অভাব।’ ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে এ মানব পাচার প্রতিরোধ সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যত মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলোই ঘটেছে অনিবন্ধিত ভুইফোঁড় এজেন্সির মাধ্যমে। এদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে।’
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমাদের গুরুত্বের জায়গা জঙ্গি হলেও মানব পাচার, সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে অচিরেই সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যু মুক্ত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন র্যাবের এ কর্মকর্তা।’
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বায়রার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজির আহমদ ও বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিজ মালিকরা উপস্থিত ছিলেন ।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।





