আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত রাখাইনে ত্রাণ সরবরাহ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত সংকটকে কারণ দেখিয়ে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ডাব্লিউএফপি। এতে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে গেল এক সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে ৪শ জন নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের সেনাবাহিনী নিহত ৪শ জনের মধ্যে ৩৭০ জনকে সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছে। এবার সেখানে নিরাপত্তাজনিত সংকটে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা জানালো জাতিসংঘ।
ডাব্লিউএফপি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘দুর্গত সব সম্প্রদায়ের কাছে কী করে ত্রাণ পৌঁছানো যায়, আমরা যতো দ্রুত সম্ভব সেই চেষ্টা করব। এমনকী চলমান সহিসংতায় কেউ বিপন্ন হলে তার কাছেও পৌঁছাতে চেষ্টা করব আমরা।’ ওই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের নামোল্লেখ না করে আরও বলা হয়, ত্রাণ সরবরাহে স্থগিতাদেশের ফলে পৃথিবীর সবথেকে বিপন্ন এক জনগোষ্ঠীর আড়াই লাখ মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
ত্রাণ সরবরাহ স্থগিত ঘোষণার কিছু সময় আগে রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৪০০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তেনিও গুয়ারেস রাখাইন-পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বলে আখ্যা দেন। মিয়ানমারকে সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযান সম্পর্ক মহাসচিব-এর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী যে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ মহাসচিব। সংযম এবং সুবিবেচনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার মধ্য দিয়ে চলমান মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রাথেংডাংয়ে একদিনেই শতাধিক বেসামরিক হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এরআগে গত বছরের অক্টোবরে সংঘটিত সামরিক অভিযানের সময়ে জাতিসংঘের তরফ থেকে মিয়ানমারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সেখানকার পরিস্থিতিকে তারা আখ্যা দেয় ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও তুলেছিল।
এবিসি নিউজের শুক্রবারের এক খবরে বলা হয়েছে, গত রবিবার গ্রামবাসীসহ সমগ্র রাথেডাং-এর চাট পিং গ্রামকে ঘিরে ফেলেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এটা ছিল খুব বড় ধরনের এক তাণ্ডব। আরাকান প্রজেক্ট প্রেশার গ্রুপ-এর পরিচালাক ক্রিস লেওয়া। এবিসি নিউজকে তিনি বলেছেন, ‘যতোদূর জানি নিশ্চিত প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩০ জন।’
তথ্য: বাংলা ট্রিবিউন।






