মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ
চৌদ্দদলীয় জোটের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম গত শনিবার খুলনার হাদিস পার্কে জোটের এক জনসভায় বক্তৃতা করেছেন। তাঁর বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, মেসি-নেইমার-রোনালদোরা পেনাল্টি মিস করতে পারে; কিন্তু এটি নিশ্চিত বলা যায়- আগামী নির্বাচনের ফাইনাল খেলায় শেখ হাসিনা কোনোভাবেই পেনাল্টি মিস করবেন না। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিজয় সম্পর্কে সমবেত জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্যই তিনি জোরের সঙ্গে এসব কথা বলেছেন বলে মনে হয়। তা ছাড়াও তিনি সম্ভবত তাঁর নিজস্ব হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতেই এমন নিশ্চয়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অবশ্য এর আগেও এমন কথা কয়েকবার বলেছেন।

ফুটবল খেলায় শ্রেষ্ঠ প্লেয়ারদের ক্ষেত্রেও পেনাল্টিতে গোল করা ষোলআনা নিশ্চিত থাকে না। পেনাল্টি মিস হওয়ার ঘটনা হরহামেশাই হয়ে থাকে। কারণ, বল কিক করতে হয় ১২ গজ দূর থেকে। সেখান থেকে বল কিক করে, ৮ গজ ব্যবধানে স্থাপিত প্রতিপক্ষের দুটি পোস্টের মাঝ দিয়ে বলটিকে গোলে ঢুকাতে হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সজাগ ও ক্ষিপ্র গোলকিপারকে মোকাবেলা করেই তা করতে হয়। বলটি যদি সামান্য ডান-বাম-ওপর দিয়ে যায় কিংবা যদি গোলকিপার তা ধরে ফেলতে বা সরিয়ে দিতে পারে, তাহলে গোল মিস হয়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে খেলার কোনো ফলাফল না হলে, টাইব্রেকারে পেনাল্টি কিকের দ্বারা খেলার জয়-পরাজয় চূড়ান্ত করা হয়। কোনো প্লেয়ার মিস না করা পর্যন্ত পেনাল্টি কিক করা চলতে থাকে। কারও ক্ষেত্রেই নিশ্চিত করে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়- তার পেনাল্টি শটে গোল হবেই। কোনো এক পর্যায়ে কারও না কারও শট মিস হয়। এর মধ্য দিয়েই খেলার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায়। পেনাল্টি মিস হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে অনন্তকাল ধরে পেনাল্টি কিক করে যেতে হতো। কিন্তু অন্য সবার ক্ষেত্রে গোল মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও মো. নাসিম নিশ্চিত- শেখ হাসিনার পেনাল্টি শট কোনোভাবেই মিস হবে না। সবার ক্ষেত্রে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব; মো. নাসিমের দ্বারা শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে সে সম্পর্কে এ ধরনের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারার পেছনে রহস্যটি কী?
লোকজন বলাবলি করছে, শেখ হাসিনা পেনাল্টি মিস করবেন না- এ কথা মো. নাসিম এত নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন তিনটি কারণে। এক. পেনাল্টিতে বল ১২ গজ দূর থেকে কিক করতে হলেও, শেখ হাসিনার জন্য এই দূরত্ব হয়তো এক গজ করে রাখা হয়েছে; দুই. গোলপোস্টের মধ্যকার দূরত্ব ৮ গজ হওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়তো ১৬ গজ করে রাখা হয়েছে; তিন. প্রতিপক্ষের গোলপোস্টটি হয়তো গোলরক্ষকবিহীন অবস্থায় উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই পেনাল্টি মিস হওয়ার বিন্দুমাত্র আশঙ্কা যে নেই- সে কথা ষোলআনা নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলতে পারছেন।
জনগণ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পারছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেনতেন উপায়ে আরেক মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনের নামে প্রহসনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। মানুষ যেন তাদের জোচ্চুরি ও প্রতারণা টের না পায়, সে জন্য প্রহসনের ক্ষেত্রে হাতসাফাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জুয়েল আইচের ম্যাজিকের মতো কিছুই খালি চোখে টের পেতে না দিয়ে ম্যাজিকের কায়দায় মঞ্চে বিজয়ীকে হাজির করার ব্যবস্থা পাকা করে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের নামে জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা- সব আমলেই বারবার প্রহসন সংঘটিত হলেও, এবার ডিজিটাল উন্নয়নের ঠেলায় ঐন্দ্রজালিক প্রহসনের আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারের পেছনে যদি পর্যাপ্ত জনসমর্থন থাকত, তাহলে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য তাকে এ ধরনের ঐন্দ্রজালিক প্রহসনের আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। সরকার যেহেতু নিজেই এ কথা জানে, তার পেছনে পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই; একই সঙ্গে এ কথাও সে জানে যে, প্রহসনের পথ গ্রহণ করা ছাড়া তার পক্ষে পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। কিন্তু নানা কারণে ক্ষমতায় থাকার জন্য সে মরিয়া। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার মরিয়া হওয়ার একটি বড় কারণ হলো, দুঃশাসনের কৃতকর্মের জবাবদিহি করা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য অন্য কোনো পথ তার সামনে খোলা নেই। কথায় বলে- ‘বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়া কোনোভাবে সম্ভব হলেও, সেখান থেকে অবতরণ করা খুবই কঠিন।’ আওয়ামী লীগের জন্য এটিই হলো সবচেয়ে বড় সংকট। তাই অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টায় ঐন্দ্রজালিক প্রহসনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া তার সামনে আর কোনো গতি নেই।
এসব তো হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান থেকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভাবনা। কিন্তু অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য জনগণের প্রত্যাশা এবং এসবের জন্য দেশবাসীর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের ঐন্দ্রজালিক প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন হলো পরিপূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। দেশের প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক শক্তিকে তাই অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে। নির্বাচনকে অর্থশক্তি, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক ধূম্রজাল ইত্যাদি থেকে মুক্ত করা এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুসহ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবিতে তারা সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে নূ্যনতমভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য তারা নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। সরকার এসব দাবি, বিশেষত শেষোক্ত দাবিটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা করতেও তা অস্বীকার করছে। এটি এমন এক অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে, যার অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর পরিণতি দেশের জন্য বড় রকম বিপদ ডেকে আনতে পারে। অথচ বিভিন্ন পক্ষের অনড় ও বিপরীতমুখী অবস্থান সত্ত্বেও সমঝোতার সুযোগ আছে। অচলাবস্থা নিরসনের পথ আছে। সে সুযোগ গ্রহণ করা হবে কি-না, তা প্রধানত সরকারের সদিচ্ছার ওপরেই নির্ভর করছে।
আওয়ামী লীগ সরকার তার অনড় অবস্থানটি আঁকড়ে ধরে রাখার ক্ষেত্রে ‘সংবিধান অনুসারে সবকিছু করতে আমরা বাধ্য’- এই অজুহাতকে প্রধানত ব্যবহার করছে। কিন্তু এ কথাটি সবারই জানা আছে, সংবিধানেই ‘সংবিধান সংশোধন’ করার বিধান আছে। অর্থাৎ যা সংবিধানে এখন নেই, সেটিকে যে ‘অসাংবিধানিক’ অথবা ‘সংবিধানবিরোধী’ হতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে যদি সংবিধান সংশোধন করা হয়, তাহলে সংবিধানসম্মতভাবেই তা করা যায়। তাই এ ক্ষেত্রে ‘সংবিধানে নিরপেক্ষ তদারকি সরকার সম্পর্কে কোনো কথা নেই’- এ দোহাই দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা থামিয়ে দেওয়া মোটেও যুক্তিগ্রাহ্য নয়। প্রশ্নটি সংবিধানসম্মত হওয়া না হওয়ার বিষয় নয়। প্রশ্নটি হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা না থাকার বিষয়। স্পষ্টতই সরকারের সেরূপ সদিচ্ছার প্রকাশ এখনও নেই। কেন নেই, সে কথা আগেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবনাকে সংবিধানবিরোধী বলে নাকচ করে দিয়ে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের সংবিধানের একনিষ্ঠ অনুসারী বলে দাবি করলেও তারা নিজেরাই সংবিধানবিরোধী কথাবার্তা হরহামেশাই বলে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা ক্রমাগতই জোরের সঙ্গে বলে চলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে।’ অথচ এই কথাটি সরাসরিভাবে সংবিধান পরিপন্থী একটি বক্তব্য। কারণ সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব হলো স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের। শেখ হাসিনা বা অন্য কোনো সরকারের নয়। অধিকন্তু সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে যে কথা বলা আছে সে অনুযায়ী নির্বাচনকালে যারাই প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী থাকুন না কেন, তারা নির্বাচন কমিশনের কাজে সহায়তা করতে বাধ্য থাকবেন। অর্থাৎ সে সময় কিছু ক্ষেত্র বাদে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা চূড়ান্ত বিবেচনায় ন্যস্ত থাকবে নির্বাচন কমিশনের হাতে।
এদিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, এ মাসেই ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন করা হবে এবং এ কথাও বলা হয়েছে, সেই সরকার শুধু ‘রুটিন কাজ করবে’। এ কথার অর্থ হলো, নির্বাচনকালে স্বাভাবিক সময়ের সরকার থেকে একটি ভিন্ন সরকার গঠন করা হবে। দুই কারণে এ কথার এ রকম অর্থ করতে হয়। প্রথমত, ক্ষমতাসীনরা কেবিনেট ঢেলে সাজানোর কথা বলছেন না। বলছেন নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা। নিশ্চয় এখানে নতুন সরকারের কথা বলা হচ্ছে। কারণ, তাদের কথায় যদি পূর্বেকার স্বাভাবিক সময়ের সরকারেরই নতুন বিন্যাস বোঝানো হতো, তাহলে ‘গঠন’ শব্দটি ব্যবহার করা হতো না। যে সরকার চালু আছে, সেটিই যদি চলতে থাকে, তাহলে দিনক্ষণ দিয়ে নতুন আরেক সরকার ‘গঠন’ করার কথা নিশ্চয়ই বলা যায় না। তদুপরি, তাদের বক্তব্যে শুধু নতুন সরকারের কথাই বলা হচ্ছে না। একই সঙ্গে নতুন ধরনের সরকারের কথাও বলা হচ্ছে। যদি তা না-ই হতো তাহলে ‘শুধু রুটিন কাজ করবে’- এ কথাগুলো বলার প্রয়োজন হতো না। স্বাভাবিক সময়ের সরকারের ক্ষেত্রে এমন কথার তো কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষেত্রে এ কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ সে সময়কালে একটি ‘ভিন্ন ধরনের’ সরকার গঠনের কথাই বলা হয়েছে।
‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে’ এবং সে সরকার ‘শুধু রুটিন কাজ করবে’- এ দুটি বিষয়ের কোনোটি সংবিধানে এখন নেই। বলা হয়ে থাকে, সংবিধানে এসব কথা লেখার প্রয়োজন হয় না। কারণ এটিই হলো অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্র অনুসরণকারী দেশের ক্ষেত্রে রেওয়াজ। এ ক্ষেত্রে সেই রেওয়াজ অনুসরণে ক্ষমতাসীনদের সদিচ্ছার ওপর আস্থা রাখাই যথেষ্ট। কিন্তু আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনদের সদিচ্ছা সম্পর্কে মানুষের অভিজ্ঞতা হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। প্রকৃত সত্য হলো, এসব রেওয়াজ অনুসরণ বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সদিচ্ছার ওর আস্থা রাখা তো যায়ই না, বরং ক্ষমতাসীন থাকা প্রতিটি সরকারই নির্বাচন প্রক্রিয়া ও তার ফলাফলকে নির্ধারণমূলক প্রভাবিত করার চেষ্টা করে থাকে। কোনোভাবেই যেন পেনাল্টি মিস না হয়, তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফন্দি-ফিকিরের আশ্রয় নেওয়ার মধ্য দিয়েই ক্ষমতাসীনদের প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশিত হয়ে থাকে। দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন যে হয় না- এটিই দেশবাসীর উপর্যুপরি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। এ কারণেই নির্বাচনের সময় সরকারের কর্তৃত্বকে ‘রুটিন কাজ করার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়কে ক্ষমতাসীন সরকারের সদিচ্ছার ওপর কোনোক্রমেই ছেড়ে দেওয়া যায় না।
‘নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে’ এবং ‘সে সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে’- ক্ষমতাসীনদের এসব মৌখিক কথা যদি প্রকৃতই তাদের অন্তরের সদিচ্ছাপ্রসূত হয়, তাহলে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে তাদের কোনো আপত্তি থাকার কারণ থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রে এখন যা প্রয়োজন তা হলো, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যদি সেই সদিচ্ছার অভাব না থাকে, তাহলে এ বিষয়ে এখনই ক্ষমতাসীনদের সরকার-বহির্ভূত গণতান্ত্রিক দল ও শক্তির সঙ্গে দ্রুত শলাপরামর্শ শেষ করে ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও তা শুধু রুটিন কাজ করবে’- মর্মে ‘অষ্টাদশ সংবিধান সংশোধন বিল’ প্রস্তুত করতে হবে। আগামী ২৩ অক্টোবর যে সংসদ অধিবেশন বসছে সে অধিবেশনেই এই সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করার ব্যবস্থা করতে হবে।
অনেকে বলতে পারেন, হাতে যেটুকু সময় আছে তাতে এত দ্রুত সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। এ কথা ঠিক নয়। কারণ এরশাদের স্বৈরশাসনের পতনের পর তিনি যার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, সেই বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নাম সবাই মিলে চূড়ান্ত করতে ১২ ঘণ্টা সময়ও লাগেনি। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে উত্থাপিত, আলোচিত ও অনুমোদিত করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমানেও সংসদের স্বল্প কয়েক দিনের একটি মাত্র অধিবেশনেই তা করা সম্ভব।
এ ধরনের একটি সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা রাজনীতিতে অস্থিরতা, নৈরাজ্য, সংঘাত দূর করে সমঝোতার ও অচলাবস্থা কাটানোর একটি পথ হয়তো খুলে দিতে পারবে। এই পদক্ষেপ স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ হয়তো খুলে দিতে সক্ষম হবে। এ ধরনের শুভবুদ্ধি যদি সবার মধ্যে, বিশেষত সরকারের মধ্যে উদয় হয়, তাহলে তা হবে সবার জন্যই মঙ্গলজনক।
সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
সৌজন্যেঃ সমকাল





