অনলাইন ডেস্কঃ
কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা যাতে ভোটের আগে-পরে মিলিয়ে তিন দিন ক্যাম্পের চৌহদ্দির বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মিয়ানমারের এই নাগরিকদের ভোটের কাজে ব্যবহার এবং তাদের দিয়ে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির পথ বন্ধ করতেই কমিশনের এমন নির্দেশনা।
৩০ ডিসেম্বর ভোট সামনে রেখে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো রোহিঙ্গা ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারবে না। ওই সময় তারা অন্য কোথাও যেতে পারবেন না।
এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদেরও গাড়ি নিয়ে ওই সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইসির ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার উপ সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে যেন নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ব্যবহার করতে না পারে বা তারা যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে অথবা কোনো দুষ্কৃতকারী তাদেরকে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য বিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।”
এক্ষেত্রে ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি এনজিওকর্মীদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও খাদ্য, ত্রাণ বা জরুরি স্বাস্থ্য সেবার বিষয়গুলোকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখতে বলা হয়েছে।
জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো চিঠির অনুলিপি পররাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহা পরিদর্শক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
গতবছর ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের অধিকাংশই আছে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে। এর বাইরে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আসা আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে চলেছে বাংলাদেশ।
মিয়ানমারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে ফেরত পাঠাতে গত ১৫ নভেম্বর সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ওই জনগোষ্ঠীর অনাগ্রহের কারণে তা শুরু করা যায়নি।
রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনার জন্য গতবছরই তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সরকার। ক্যাম্পে থাকা শরণার্থীদের নিবন্ধনও কার্ডও দেওয়া হয়।
কিন্তু তারপরও বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ার তথ্য বেরিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশনের তদন্তে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গাদের বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।





