অনলাইন ডেস্কঃ
মুক্তিযুদ্ধে লড়েছেন একসঙ্গে, ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন একসঙ্গে; চাইছিলেন একসঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে- কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি; যুদ্ধদিনের সেই সঙ্গী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চিরবিদায়ে এখন শোককাতর নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

একাদশ সংসদ নির্বচনে ময়মনসিংহ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে বৃহস্পতিবার শপথ নেন নাজিম। এদিন শপথ নেওয়ার কথা ছিল কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে পঞ্চমবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফের। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি নিতে পারেননি শপথ।
ফুসফুসের ক্যান্সার নিয়ে ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশরাফ সময় নিয়েছিলেন সুস্থ হয়ে ফিরে শপথ নিতে; কিন্তু তার পরপরই তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
নাজিম ২০১৬ সালে উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম শপথ নিয়েছিলেন; ফলে আশরাফের সঙ্গে তার শপথ নেওয়া হল না। বৃহস্পতিবার রাতে রাজনৈতিক সঙ্গীর মৃত্যুর খবর শুনে এই অপ্রাপ্তির কথাই বলছিলেন তিনি। তার স্মৃতিচারণে আসে একাত্তরের কথাও।
নাজিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিএলএফে (মুজিব বাহিনী) যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। রাজ্জাক ভাইয়ের (প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক) নেতৃত্বে বিএলএফ করেছি। আমরা রংপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত এলাকায় ছিলাম।”
মুক্তিযুদ্ধের আগেই একসঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাজিম ও আশরাফ।
নাজিম বলেন, “১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত আমরা এক সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছি। চার বছর আমরা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা এক সঙ্গে ছয় দফা, ১১ দফা আন্দোলন করেছি।
“আমি ছিলাম সভাপতি। বয়সে আমার আড়াই বছরের ছোট হলেও চলতাম বন্ধুর মতো। কোনো সময় আমাকে নাম ধরে ডাকেনি আশরাফ। দেখা হলেই বলত, ‘আমার নেতা আসছে’।”
ছাত্র আন্দোলনে সুখ-দুঃখের ভাগী আশরাফকে নিয়ে নাজিম বলেন, “খেয়ে না খেয়ে রাজনীতি করেছি। অনেক সময় দুজনের কারও কাছেই টাকা ছিল না, দলের দুঃসময়ে পালিয়ে বেড়াতে হত, আত্মগোপনে দুজন একসাথে ছিলাম অনেক দিন। তাই বাড়ি থেকে টাকা আনতে যাওয়ারও সুযোগ ছিল না।”
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফ স্কুলজীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন রাজনীতিতে।
আশরাফের ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রসঙ্গে নাজিম বলেন, “ছাত্রজীবনে সে মেধাবী ছিল। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সময় ইন্টারমিডিয়েটে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ত সে।
“তার বাবা প্রথমে চাইছিল না, কিন্ত আশরাফের আগ্রহ ও আমাদের সবার চাওয়ার কারণে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়েছিলেন।”

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নভেম্বরে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে কারাগারে হত্যা করা হলে বিরূপ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান আশরাফ। লল্ডনেও আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে ভূমিকা ছিল তার।
১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য হন আশরাফ; শেখ হাসিনার সরকারে প্রতিমন্ত্রীও হন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তিনি।
বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে পরের কাউন্সিলের দলের সাধারণ সম্পাদক হন আশরাফ। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীতে। মৃত্যুর সময় জনপ্রশাসনমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
রাজনীতিক আশরাফকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাজিম বলেন, “সর্বগুণে গুণান্বিত ছিল সৈয়দ আশরাফ। এমন সৎ, নিষ্ঠাবান নেতা আওয়ামী লীগে বিরল। প্রকৃতপক্ষে একজন মেধাসম্পন্ন রাজনৈতিক ছিলেন সৈয়দ আশরাফ।”
সূত্রঃ বিডিনিউজ





