অনলাইন ডেস্কঃ
পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিদগ্ধ একজন পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন।
সোমবার আনোয়ার হোসেন নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যুতে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ৬৮ জনে দাঁড়াল।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আরও আটজনের সঙ্গে ভর্তি করা হয়েছিল আনোয়ারকে।
৫৫ বছর বয়সী আনোয়ারের দেহের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারের মৃত্যু ঘটে।
রিকশাচালক আনোয়ারের বাবার নাম আলী হোসেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার রায়নগর গ্রামে। কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদের পূর্বপাশে স্ত্রী হাজেরা বেগম এবং তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন আনোয়ার।
একমাত্র মেয়ে বীথির আবদারে তার জন্য বিরিয়ানী কিনতে সেদিন চকবাজারে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়েছিলেন আনোয়ার।
পরিবারে আনোয়ারই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি; ফলে তার আহত অবস্থায় চোখে অন্ধকার দেখার কথা এর আগে জানিয়েছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে আহত যতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তার মধ্যে এই প্রথম কারও মৃত্যু হল।
আগুনের ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন বাকি আটজনের খবর জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল বলেন, একজনও আশঙ্কামুক্ত নন।
“কেমিকেল বার্ন কোনো সময় সুপারফিশিয়াল বার্ন হয় না, ডিপ বার্ন হয়। এই রোগীদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে,” বলেন তিনি।
শুরুতে এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে শিল্পমন্ত্রী দায়ী করলেও তদন্তকারীরা এখন বলছেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আলামত তারা পাননি। গুদামের রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে এখন মনে করা হচ্ছে।
আইসিইউতে থাকা রোগীদের মধ্যে সোহাগের (২৫) শরীরের ৬০ শতাংশ, রেজাউলের (২১) শরীরের ৫১ শতাংশ, জাকিরের (৩৫) শরীরের ৩৫ শতাংশ, মোজাফফরের (৩২) শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়েছে।
ওয়ার্ডে থাকা হেলালের (১৮) শরীরের ১৬ শতাংশ, সেলিমের (৪৪) শরীরের ১৪ শতাংশ, মাহমুদুলের (৫২) শরীরের ১৩ শতাংশ এবং সালাহউদ্দিনের (৪৫) শরীরের ১০ শতাংশ পুড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ৬৭টি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
তার মধ্যে ৪৮ জনের মরদেহ শনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
বাকিদের শনাক্ত করার জন্য তাদের সম্ভাব্য স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিয়েছে সিআইডি; লাশের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে শনাক্ত হওয়ার পর হস্তান্তর করা হবে লাশগুলো।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে সোমবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়।
সূত্রঃ বিডিনিউজ






