এম.এ আজিজ রাসেল:
জেলার উপকূলে বিভিন্ন সময়ে গভীর সমুদ্রে প্রকৃতিক দূর্যোগে নিহত ৩৬ জেলে পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে ২০ জুলাই বুধবার দুপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হল রুমে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয় প্রদান প্রকল্পের আওতায় ১৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।
এর মধ্যে মহেশখালী উপজেলার ২০ পরিবার, চকরিয়ার ৮,সদরের ৬, উখিয়া ও কুতুবদিয়ার এক পরিবারকে এ অনুদান দেওয়া হয় ।
জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেনের সভাপতিত্বে চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেনে জেলা আওয়ামী লেগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সেক্টর কমান্ডার মো: শাহাজাহান,আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহম্মদ,মহেশখালীর পৌর মেয়র মকছুদ আহাম্মেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা মৎস কর্মকর্তা অমিতোষ সেন।
চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তরা জেলেদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সরকার জেলেবান্ধব, তাই জেলেদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। জেলেদের ছোট ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহব্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন,বড় মাছ শিকার করলে বেশি দাম পাওয়া যাবে, এতে জেলেদের সংকট দুর হওয়ায়র পাশাপাশি অথনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে এক ট্রলারের এক মাঝি বলেন, ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা দুর্ঘটনায় সাগরে কয়েক ঘন্টা ভেসে থাকলেও অনেক সময় জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। তাছাড়া সাগরে জলদস্যুতার কবলে পড়লেও তাৎক্ষনিকভাবে জেলেদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারছেনা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, কক্সবাজার উপকূলে জেলেরা যাতে নিরাপদে সাগরে মাছ ধরতে পারে সেজন্য কোস্টগার্ডের ক্যাম্প বসানো হবে।
অনুদানের টাকা পেয়ে শহরের কুতুবদিয়াপাড়ার মৃত জেলে ছালেহ আহম্মদের স্ত্রী পপি আক্তার জানান, সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে দূর্যোগের কবলে পরে তার স্বামী নিহত হয়। অনেকদিন পর কিছু অর্থ পাওয়ায় তার পরিবারের কাজে আসবে।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয় প্রদান প্রকল্পের আওতায় জেলায় এবার ৩৬ জেলে পরিবারকে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন এবছর মোট ৫১ পরিবার অনুদানের আবেদন করেছিল কিন্তু তাদের জেলের পরিচয়পত্র না থাকায় ১৫ টি আবেদন বাধ্য হয়ে বাতিল করতে হয়। তিনি আরও জানান, গত দুই বছর ধরে সরকার জেলেদের পরিবারকে এ অনুদান দিয়ে আসছেন।







