আব্দুল হামিদ:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল কবির রাশেদ, ব্যবসায়ী নেজাম উদ্দিন, ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজা হেডম্যানের মুহুরী মওঃ হাবিবুর রহমান অপহরণের ২৪ ঘন্টা পার হলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার ৭ টার দিকে ঈদগাঁও ষ্টেশন থেকে মিনিবাস যোগে তারা নিজ বাড়ি বাইশারী উদ্দেশে রওয়ানা করছিলেন। পথিমধ্যে সড়কের ঈদগড় ইউনিয়নের ধুমচাকাটা নামক স্থানে পৌঁছা মাত্র সড়কের উপর গাছ ফেলে মিনিবাস থামিয়ে ১০/১২ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়ে যায় উক্ত তিন ব্যক্তিকে। বাকি যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ লক্ষাধিক টাকা, মোবাইল সেট, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ঈদগড় পুলিশ, ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এবং বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া শত শত জনতা পুলিশের সাথে যুক্ত হয়ে ভোর রাত পর্যন্ত গহীন বনে অভিযান চালায়। তবে অভিযান ছিল নিস্ফল। কাউকে প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে অপহৃত পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার ২৪ আগষ্ট সকাল ৯ টা থেকে অপহৃতদের মোবাইল ফোন থেকে জন প্রতি ২ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে সন্ত্রাসীরা। অন্যথায় তাদের হত্যা করা হবে বলে মোবাইল ফোনে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। উক্ত ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন আতংকে।
বুধবার সকাল ৯ টা থেকে দ্বিতীয় দফা পুলিশী অভিযান রামু থানা অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর এবং বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু মুছার নেতৃত্বে ঈদগড় পুলিশ, রামু পুলিশ, ঈদগাঁও পুলিশ এবং বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা সম্ভাব্য স্থানে অভিযান শুরু করেছেন। বিষয়টি আমাদের রামু কে নিশ্চিত করেছেন রামু থানা অফিসার ইনচার্জ প্রভাব চন্দ্র ধর। তিনি আশা করছেন অবশ্যই অপহৃতরা উদ্ধার হবেন।
উল্লেখ্য, বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ইতিপূর্বে শতাধিক লোক অপহরণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া দিনে দুপুরে উক্ত সড়কে চলে সন্ত্রাসীদের তান্ডব। যার ফলে বাইশারী-ঈদগড় ও গর্জনিয়ার তিন ইউনিয়ন মানুষ রয়েছেন আতংকে।
এদিকে স্থানীয়রা পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছে এবং অপহৃতদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি।







