রামুতে ভাবগম্ভীর ধর্মীয় মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক ও প্রচারক তথাগত গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ লাভের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫৬৯ বুদ্ধবর্ষ বরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রোববার (১১ মে) সকালে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে সকালে শোভাযাত্রা বের করা হয়। দুপুরে ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৯ তম রাংকুট ৮৪ হাজার ধর্মস্কন্ধ (বুদ্ধ) পূজা)। এছাড়াও রামু শ্রীকুল মৈত্রী বিহার, চেরাংঘাটা উসাইসেন বৌদ্ধ বিহার, হাজারীকুর বোধিরত্ন বিহারসহ উপজেলার প্রায় ৩০ টি বৌদ্ধ বিহারে ভোরে বুদ্ধপূজা, সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, মৈত্রী শোভাযাত্রা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, বিকেলে ধর্মালোচনা, সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনা করেন পূজারী বৌদ্ধরা।

এ উপলক্ষে শনিবার রাতে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের উদ্যােগে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক উৎসব।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের ভিক্ষু ও কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ থের বলেন, বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনেই বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধ জন্ম, বুদ্ধত্বলাভ ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। ত্রিস্মৃতি বিজড়িত এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

উৎসবটি বৈশাখী পূর্ণিমা যা বুদ্ধপূর্ণিমা নামে অত্যধিক পরিচিত। মূলত, রাজকুমার সিদ্ধার্থের জন্ম, বোধিলাভ এবং তথাগত বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ সাক্ষাৎ এই তিন কালজয়ী ঘটনা বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়। তাই বৈশাখী পূর্ণিমার অপর নাম বুদ্ধপূর্ণিমা।

তিনি আরও বলেন, বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপনের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধরা ২৫৬৯ নতুন বুদ্ধবর্ষ কে বরণ করবেন। বুদ্ধবর্ষ গণনা বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পরবর্তী সময়ে শুরু হয়। অর্থ্যাৎ গৌতম বুদ্ধ দেহত্যাগ করেছেন আজ থেকে ২৫৬৯ বছর আগে।তাই আজকের দিন তথাগত বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ দিবসও বটে।







