দৈনিকশিক্ষা:
নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা ও প্রশ্নফাঁস বন্ধে বদ্ধপরিকর শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অতীতের মতো যাতে আর কোনো ভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় তার দিকে কঠোর নজরদারি রাখছে সরকার। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে যা যা করার প্রয়োজন তাই করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও প্রশাসন) অরুনা বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র সচিব প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলবেন পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে। এর ব্যতয় ঘটলেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যাবস্থা।
এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে করণীয় ঠিক করতে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আন্ত:মন্ত্রনালয়ের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ বাহিনীর সদস্য, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা।
সারাদেশে ১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এতে সারাদেশে দুই হাজার ৭৩৪টি কেন্দ্রে ২৪ লাখ ১০ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় বসবে। এর মধ্যে ১১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ জন ছাত্র এবং ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৩ জন ছাত্রী। আট বোর্ডের অধীনে এবার জেএসসিতে ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩৪ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জন পরীক্ষা অংশগ্রহণ করবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা নকল প্রতিরোধ ও প্রশ্নফাসঁ রোধে জিরো টলারেন্সে। এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারা আমাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া প্রশ্নফাঁসের গুজব বিভিন্ন সময় ফেসবুকেও ছড়ানো হচ্ছে তাই আমরা বাংলাদেশ টেলিকমিউনেশন রেগুলেটরী কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। তাদেরকে বলেছি যার আইডি থেকে গুজব ছড়ানো কিংবা প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দল মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরীক্ষা শুরুর ১০ দিন আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এবারের জেএসসি ও জেসিডি পরীক্ষা নিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী রোববার সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন জেএসসি ও জেসিডি পরীক্ষা যথাসময়ে হবে। তিনি বলেন, কেউ যেন কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা না করেন। বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যও মিথ্যা অপপ্রচার করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না। পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে নকলমুক্ত পরিবেশে হবে। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে ফল দেয়া হবে।
বৈঠক সম্পর্কে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগামীকালের বৈঠকে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। পরবর্তীতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। পরীক্ষ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং প্রশ্নফাঁস রোধ করাই মূল উদ্দেশ্য বলে জানান আন্ত:শিক্ষা বোর্ডের প্রধান এ চেয়ারম্যান।







