প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
কক্সবাজারের রামুতে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভুগান্তি চরমে এসে ঠেকেছে। রামুর বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলীর লাগাতার দুর্নীতি অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে এলাকাবাসী।
মিটার রিডিং মনগড়াভাবে তৈরি করে অতিরিক্ত বিল করা, কোনো কারণ ছাড়াই বিভিন্ন গ্রাহকের মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, পরে সংযোগ প্রদানের সময় নিয়ম বহির্ভুতভাবে মোটা অংকের টাকা আদায় করা, মামলাগ্রস্থ বিরোধপূর্ণ জায়গায় অবৈধভাবে মিটার দেওয়া,পরিশোধ করা বিলের টাকা নতুন বিলে আবার যোগ করে দেওয়া, গ্রাহকদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করা থেকে
শুরু করে অনেক অভিযোগ আছে রামুর বিদ্যুত অফিসের বর্তমান আবাসিক ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রামু অফিসে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন গ্রাহকের মিটার রিডিং মনগড়াভাবে তৈরি করে অতিরিক্ত বিল প্রদান করে আসছেন ওই আবাসিক প্রকৌশলী। তিনি প্রতিমাসে কোনো কারণ ছাড়াই বিভিন্ন গ্রাহকের মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সংযোগ প্রদানের সময় নিয়ম বহির্ভুতভাবে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকেন বলে গ্রাহকরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময় গ্রাহকরা অভিযোগ নিয়ে ওই প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে চরমভাবে হেনস্থার শিকার হন বলে জানা যায়। ফলে এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ এ বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।এসব বিষয়ে আমাদের রামু ডটকম প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে।
রামুর পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার ৫৩ বছর বয়সী আক্তার হোসেন জানান, তাঁর বাড়ির মিটার নং (৫০৯৫)। মিটারের রিডিং হয়েছে ৩০৯ ইউনিট। সেই অনুপাতে বিদ্যুৎ অফিস থেকে বিলের মূল্য নির্ধারণ করে চার হাজার ৩৩০ টাকা। বিলের কাগজ সম্পর্কে অভিযোগ দিতে গেলে ওই প্রকৌশলী তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এরপরও তিনি তার বিলের কাগজটি সংশোধনের ব্যাপারে প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানালে তাকে ধমকের সঙ্গে পুলিশ দিয়ে আটক করে থানায় পাঠানো হবে বলে হুমকি দেন।
অতিরিক্ত বিল এর ব্যাপারে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অফিস চলাকালে না এসে যে কোন একদিন সন্ধ্যার দিকে কিছু টাকা নিয়ে আসতে বলার মত অভিযোগও আছে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
২৫ অক্টোবর এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয় স্থানীয় গ্রাহক ধীমান বড়ুয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমি আগের মাসের বিল পরিশোধ করে দিয়েছি কিন্তু নতুন বিলে আবারও পরিশোধিত টাকাসহ বিল করা হয়েছে। আমার বিল আসে ৮৯০ টাকা অথচ বিল করা হয়েছে ১৭১৪ টাকার।
কথা হয় গ্রাহক জুয়েলের সাথে। তিনি বলেন আমার বিলে ৭০ ইউনিট বেশি বিল করা হয়েছে। এটা দেখাতে এসেছি।
বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ নিয়ে আসা এরকম আরো অনেকের সাথে কথা হয়। সবার শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ।
রামু থানার ওসি প্রভাস চন্দ্র ধর আমাদের রামু কে বলেন, “আমার রামু থানার কম্পাউন্ডের বিদ্যুৎ ভোল্টেস অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় ফ্যান, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে এসব যন্ত্রপাতি চালানো হচ্ছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ প্রকৌশলীকে অনেকবার অবহিত করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, “ওই বিদ্যুৎ প্রকৌশলী রামু উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কোনো সভায় যোগদান করেন না। গত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রকৌশলী অশোক কুমার দাশকে উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমের নির্দেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রামু উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গ্রাহকের দেওয়া অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার সদুত্তর দিতে না পারায় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রেজুলেশনে লিপিবদ্ধ করা হয়।”
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী আমাদের রামু কে বলেন, “উপজেলা পরিষদের আগামী আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানার চেষ্টা করেও এ প্রতিবেদক উক্ত আবাসিক প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে পারেনি।







