রামু উপজেলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রামুর বিআরডিবি হলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ ‘পিএফজি’ রামু উপজেলার সমন্বয়কারী প্রাক্তন শিক্ষক হোসনে আরা।
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ রামু উপজেলা সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম।
সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তারা বলেন, সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সকলকে নিতে হয়। সবাই চাইলে সম্প্রীতি বিরাজমান থাকে। তবে বৃহত্তর ধর্মীয় সম্প্রদায়, জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্বটা প্রধান। পিস ফ্যাসিলিট্যাটররা যত বেশি মানুষকে মোটিভেট করতে পারবে সম্প্রীতি তত বেশি টেকসই হবে। এক্ষেত্রে পিস ফ্যাসিলিট্যাটারকে খুঁজে বের করতে হবে ইনস্টিগেটর (প্ররোচনা দান কারি) কারা আর কোন শ্রেণির মানুষ সহজে প্ররোচিত ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি নেত্রী ফরিদা ইয়াছমিন, নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী এমএ কালাম সরকারি কলেজের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রামু উপজেলা সভাপতি হাফেজ আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা বখতেয়ার আহমদ, রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ, পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের সদস্য সাংবাদিক নুরুল ইসলাম সেলিম, রামু কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের পুরোহিত সজল ব্রাহ্মণ চৌধুরী, রামু প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, বিএনপি নেতা আতিকুল হক, মহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু, আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাবেয়া বসরী, পিএফজি সদস্য জালাল উদ্দিন, ব্যবসায়ি নাছির উদ্দিন, ওয়াইপিএফজি সদস্য মোর্শেদ আলম প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন- রামুতে এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুবাতাস বইছে। ২০১২ সালের ভয়াবহতা ভুলে এখন সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আগের মতোই ফিরে এসেছে। যারা সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করে তারা কোন ধর্মের সঠিক অনুসারী হতে পারে না। ইসলামের সুমহান আদর্শ ও কোরআন হাদীসের আলোকে যারা জীবন পরিচালিত করে তারা কখনো অন্য কোন ধর্মের উপর আঘাত করে না। বরং ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। তাই ধর্মীয় রীতি মেনে চললে সম্প্রীতি বিনষ্টের আশংকা থাকে না।







