হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন রোহিঙ্গা ইস্যুতে ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। আজ সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে নির্বাচন শুরু এবং ইউনিয়নের নয়টি ভোটকেন্দ্রে ৯ হাজার একশত ২৬ জন নারী পুরুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার কথা ছিল।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুপ্রার্থী। এরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী (নৌকা) ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানি (ধানের শীষ)।
কিন্তু হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ ৩০ অক্টোবর স্থগিতাদেশের রায় প্রদান হওয়ায় সর্বত্র হতাশা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, রিটকারী আলী হোসেনের পক্ষে তাঁর আইনজীবি মোহাম্মদ আবু সায়েম গত ২৭ অক্টোবর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও মোহাম্মদ উল্লাহর ৬নং বেঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মামলাটি রুজু করেন।
মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা নির্বাচন অফিসার এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে আসামী করা হয়েছে।
গতকাল বিকাল থেকে বিষয়টি গুজব আকারে ছড়িয়ে পড়লেও রাত সাড়ে ৯টায় নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং অফিসার অরুন উদয় ত্রিপুরা। এর পর রাত ১১টা থেকে তিনি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ভোটারগণকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।
এদিকে রোববার সকাল থেকে উম্মুক্ত মঞ্চ এলাকা থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ সব ধরনের ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌছেছেন। তবে সন্ধ্যার পর ভোট স্থগিত হওয়ার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে অনেকেই নির্বাচন দপ্তরসহ সাংবাদিকদের কাছে যোগাযোগ শুরু করেন।
উল্লেখ্য,গত ২০১৪ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবু সৈয়দের কাছে হেরেছিলেন বিএনপি প্রার্থী নুরুল আলম কোম্পানি। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন চেয়ারম্যান মো. আবু সৈয়দ।
এরপর শূন্যপদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
তবে দোছড়ি ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডে স্থগিত হওয়া সাধারণ সদস্য পদের উপনির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হবে।







