সুনীল বড়ুয়া:
হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে মাত্র দেড়মাস আগে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এর পর শুরু করেন বাদি পক্ষকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র। অবশেষে বড় ভাইয়ের মেয়েকে বোনের ঘরে লুকিয়ে রেখে বড়ভাইকে বাদি বানিয়ে প্রতিপেেক্ষর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা অপহরণ মামলা করেন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় এখন উল্টো নিজেরাই বেকায়দায় পড়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুস্কুল গুচ্ছগ্রাম এলাকায়। এদিকে বৃহস্পতিবার সাজানো মামলার বাদি মাদ্রাসা ছত্রী বেলী আক্তার (১৫)ও কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজ উদ্দিনের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালে’র ২১ ডিসেম্বর রাতে খুরুস্কুল গুচ্ছগ্রাম এলাকায় নুরুল আবছার (২৪) নামের এক যুবককে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত আবছার পাশের কাউয়ার পাড়া এলাকায় মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আরফাত প্রকাশ বাংলাইয়া, জয়নাল আবেদিন ও নুর মোহাম্মদের ছেলে শামশুল আলমকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।
দেড় মাস আগে জামিনে ছাড়া পান শামশুল আলম। জেল থেকে বেরিয়ে আপন বড় ভাইয়ের মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ে বেলী আক্তার (১৫) আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রেখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আদালতে অপহরণ মামলা করেন শামসুল। তবে এ মামলার বাদি হয়েছেন বেলির বাবা নুরুল আলম।
কক্সবাজার মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো.রেজাউল করিম আমাদের রামু কে জানান, আদালত থেকে আসা সাজানো অপহরণ মামলাটি আমি নিজেই তদন্ত করি। তদন্তে স্পষ্ট হল,মামলাটি সাজানো। মূলত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জেল ফেরত শামশুল আলম প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার বড়ভাই নুরুল আলমকে দিয়ে মামলাটি করিয়েছে। আর এ মামলায় ভিকটিম বানানো হল তার মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েকে।
তিনি জানান,বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজ উদ্দিনের আদালতে ভিকটিম নিজেই ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ভিকটিম বলেছে, তার চাচা শামসুল আলম হুমকি ধমকি দিয়ে তাকে তার ফুফুর বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন এবং তিনি (চাচা) না বলা পর্যন্ত ওই বাড়ি থেকে বের না হতে চাপ প্রয়োগ করেন। এভাবে হুমকীর মুখে তার বাবাকে বাদি বানিয়ে মামলাটি করা হয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আমাদের সমাজে কিছুু অসাধু লোক যারা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অহরহ এ রকম মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছেন। যা আমাদের কাম্য নয়। এই ধরনের ভুয়া বাদির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এভাবে হয়রানির ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। আদালত চাইলে এ ধরনের কথিত বাদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। এমনকি এ ধরনের মিথ্যা মামলা করে যাতে কেউ পার না পায়,এজন্য সাধারণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।






