হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
কোনো একটা সুনির্দিষ্ট আইনের ওপর ভিত্তি করে একটি মামলা, সেই মামলার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে লিখিত যুক্তি বা মেমোরিয়াল এবং মৌখিক যুক্তিতর্ক বা ওরাল সাবমিশন এই দুইয়ের সমন্বয়ে বিজ্ঞ বিচারকমন্ডলীর সামনে আইনি লড়াই।
এই হলো মুট-কোর্ট (একধরনের আদালতি বিতর্ক) প্রতিযোগিতা। মোটা মোটা বই আর আইনের পাতার কাঠখোট্টা বিষয়টাকে যত সহজে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা যায়, তারই পরীক্ষা চলে এখানে।
প্রথম বারের মত কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে (সিবিআইইউ) দু’দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হয়েছে মুট-কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০১৬। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থীরা সবার মাঝে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
শুক্রবার ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড এ প্রধান বিচারক ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজ উদ্দিন শাহীন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নাজিম উদ্দিন সিদ্দীকি, অধ্যাপক শরাফত উল্লাহ, আইন বিভাগ প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক নাঈম আলিমুল হায়দার, শিক্ষক মোঃ জিয়াউল হক, মিনহাজ উদ্দিন, মাইসোমা সুলতানা, সায়িদা তালুকদার রাহি প্রমূখ।
বৃহস্পতিবার আটটি দলের অংশ গ্রহণে শুরু হওয়া মুট-কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন আবু শামস চৌধুরী, জান্নাতুল আরেফিন বাঁধন ও তানজিনা সিদ্দিকীর দল। রানার আপ হন সুমাইয়া, তারেক আজিজ, আবদুল মালেক ও আতিকুল ইসলামের দল।
প্রতিযোগিতায় রাশেদুল ইসলাম মুন্না সেরা অনুসন্ধানকারী, আবু শামস চৌধুরী সেরা আইনজীবি ও জান্নাতুল আরেফিন বাঁধন উদিয়মান আইনজীবির পুরস্কার পেয়েছেন।
বিচারকমন্ডলীগণ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আইন শিক্ষা বিস্তারে ব্যবহারিক জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। আজকের সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য আইন শিক্ষার অপ্রতুলতাই দায়ী। সামাজিক অবক্ষয় রোধে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আইন বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে এই মুট-কোর্ট প্রতিযোগিতা। মুট-কোর্টের মাধ্যমে আইনের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সিস্টেমের সাথে পরিচিত হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সরাসরি আদালতের কার্যক্রম উপস্থাপন করে এবং তা উপভোগ করেন। সবশেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।







