দৈনিকশিক্ষা:
শিক্ষা আাইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা অনুমোদনের জন্য খুব শিগগিরই কেবিনেটে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। নোট-গাইড ও কোচিং নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- এই দেশে কোচিং বাণিজ্য চলবে না। গাইড বই, নোটবই চলবে না। ছেলেমেয়েদের প্রতারিত করে অর্থলাভ করার জন্য কেউ কারো পদ্ধতি অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারবে না। আইনে এ বিষয়টিই তুলে ধরা হবে।’
কেবিনেটের অনুমোদন পেলে বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন হবে এবং সকল প্রক্রিয়া শেষে আইন আকারে পাস হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাইফুরস কোচিংয়ের বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্নভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি কিন্তু তখন গণমাধ্যমের অনেকের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। আমাদের সরকার অবশ্যই নোট-গাইড ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সব পদক্ষেপ নেবে এবং শিক্ষা আইনের খসড়ায় কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আজ শনিবার (১৭ ডিসেম্বর)রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ইন্টার্যাকটিভ ডিজিটাল মাদ্রাসা টেক্সটবুকস’ এর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘যে কোনো একটা কথা, যেটা দিয়ে স্টোরি তৈরি করা যাবে সেটাকেই পিক আউট করলেন। এমন একটা অবস্থা যেন আমরা মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেছি।’
নাহিদ বলেন, ‘আমি তো ২০১১ সালেই আইন করে ফেলতাম, আমরা তো করিনি। সবার মত নেয়ার চেষ্টা করেছি। এটা নিয়ে এত আলোচনা কেন?’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে শিক্ষকরা বেশি কমিটেড ছিলেন। ক্লাসের পর আরও আধঘণ্টা বসিয়ে বুঝিয়েছেন। এখন আর সেটা হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং অভিভাবকরা বসে ঠিক করতে হবে কীভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ক্লাস করানো যায়। আমরা সেটা নিয়ে একটা পথ বের করার চিন্তা করছি।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের কাধ থেকে কীভাবে পাঠ্যপুস্তকের বোঝা কমানো যায় এবং তাদের সহজপাঠ্য করা যায় সেটা আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। এখন আমরা এই প্রক্রিয়া কিভাবে আরো সহজতর করা যায় এবং ডিজিটালাইজড করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে মাদ্রাসা পর্যায়ে চারটি বই ডিজিটালাইজড করেছি। এখন শিক্ষার্থীরা চাইলেই যেকোন যায়গায় বসে নোটপ্যাড এমনকি স্মার্ট মোবাইলেও ওই চারটি বই পড়তে পারবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা ধারাকে উন্নত করার লক্ষ্যে ইন্টার্যাকটিভ ডিজিটাল মাদ্রাসা টেকস্টবুকস (আডিএমটি) সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক পর্যায়ের দাখিল ষষ্ঠ শ্রেণির চারটি পাঠ্য বইকে ডিজিটলিাইজড করা হয়েছে। এ চারটি বইয়ের মধ্যে রয়েছে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আলআকাইদ ওয়াল ফিকহ, আললুগাতুল আরাবিয়্যাতুল ইত্তিসালিয়্যাহ (আরবি ১পত্র) এবং কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (আরবি ২য় পত্র)।
নাহিদ বলেন, শিক্ষা পদ্ধতি ডিজিটালাইজড কেবল মাদ্রসা পর্যায়েই নয় সাধারাণ শিক্ষা পর্যায়েও করা হবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১৬টি বইকে আমরা ডিজিটালাইজ পদ্ধতির আওতায় এনেছি। তবে সেগুলো এখনই শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করছি না। কারণ এ প্রক্রিয়া বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এত বরাদ্দ নেই অর্থ নেই তাই ধারাবাহিকভাবে সাধারণ শিক্ষা পর্যায়ে এই পদ্ধতি চালু করা হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের কারিগরি সহায়তায় তৈরি এ আইডএমটি প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল মাধ্যম। এটি অনলাইন বা অফলাইনের সুবিধা নিয়ে ইলেকট্রনিক বিভিন্ন মাধ্যম যেমন, মোবাইল, ট্যাব এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে পড়া যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের ইইই্ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. সোহেল রহমান। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন। এছাড়া উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
আইডিএমটি এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম ছায়েফ উল্যা।







