ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:
পেকুয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিয়মিত গড়ে উঠছে স্থায়ী বসতি। টাকার বিনিময়ে বনবিভাগ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলছে এ কাজ। এতে উপজেলার সংরক্ষিত সাড়ে আট হাজার একর বনভূমি এখন অরক্ষিত হয়ে পাহাড় খেকোদের দখলে চলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের সাপের গারা এলাকার গহিন অরন্যে স্থাপন হচ্ছে একেকর পর এক পাকা দালান। বর্তমান সময়েও চলছে প্রায় পাঁচটি পাকা দালান নির্মাণ কাজ। একইভাবে উপজেলার টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে আরো ১০-১৫টি পাকা দালান। স্থানীয় ভিলেজার ও হেডম্যানদের মাধ্যমে বনবিভাগ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বেশ কয়েকটি চক্র এসব কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও খবর নেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের !
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থাপনা নির্মাণকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামকে ম্যানেজ করতে পারলে মেলে পাকা দালানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ অনুমিত ! পাকা দালান নির্মাণে ৩০ হাজার টাকা ও অস্থায়ী বা কাচা স্থাপনা নির্মাণে ১০-১৫ হাজার টাকা হারে আদায় করেন ওই বিট কর্মকর্তা।
এদিকে টইটং বিট অফিসে কর্মকর্তা না থাকায় বারবাকিয়া বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম ওই এলাকারও দায়িত্ব পালন করছেন। পেকুয়া উপজেলার সাড়ে আট হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে শীলখালী ইউনিয়নের কিছু অংশ (প্রায় দুই হাজার একর) বনভূমি বরইতলি বিট অফিসের আওয়াতাধীন। আর বাকি সাড়ে ছয় হাজার একর বনভূমি মাঠ পর্যায় থেকে দেখাশোনা করছেন বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। একজন কর্মকর্তা এই বিপুল পরিমান বনভূমি দেখাশুনা করতে গিয়ে যেমনটি হিমশিম খাচ্ছেন ঠিক একইভাবে জড়িয়ে গেছেন তিনি বিভিন্ন অপরাধে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীদের অভিযোগ তিনি একছত্র আধিপত্য বিস্তার করছেন বিশাল ওই পাহাড়ী এলাকায়। তার মনোনীত ব্যক্তিরা পাহাড়ে চালাচ্ছেন সকল অবৈধ কার্যক্রম। পাহাড়ি ছড়া থেকে বালি উত্তোলন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ লুঠসহ স্থাপনা নির্মাণ সবকিছুরই মূলহোতা ওই বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। বনভূমিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থায়ী স্থাপনার বেশ কয়েকজন মালিকের বক্তব্যে এ বিষয় গুলো উঠে এসেছে। যা এই প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
অপরদিকে শীলখালী ইউনিয়নে দালান নির্মাণে সংশ্লিষ্টতা আছে, জড়িতদের এমন বক্ত্যবের বিষয়ে জানতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকেন। পরে, বারবাকিয়া রেঞ্জ অফিসে গিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা অপেক্ষা শেষে রেঞ্জ কর্মকর্তা উত্তম কুমারের মধ্যস্থতায় দেখা মিলে বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের। সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলা ও অভিযোগের বিষয়ে অপ্রাসাঙ্গিক উত্তর দেওয়ায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বিট কর্মকর্তাকে সতর্ক করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা উত্তম কুমার পাল। বনভূমিতে বসতি স্থাপনে বিট কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেন তিনি।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রফিুকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিট কর্মকর্তা যদি বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ কারীদের সহযোগিতা করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।









