লাইফস্টাইল ডেস্ক:
ওজন কমিয়ে শুকিয়েছেন ঠিকই তবে মুখের গোলভাব এখনও কমলো না! কী করবেন? জেনে নিন।
মুখের চর্বি কমানো বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। পোশাকের মাধ্যমে শরীর চিকন দেখানো সম্ভব হলেও মুখের চর্বি লুকানো সম্ভব হয় না।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন জানানো হয়, ওজন বাড়তে থাকলে প্রথমেই মুখমণ্ডল গোল হয় আর ওজন কমানোর চেষ্টায় সবার পরে মুখের চর্বি কমে।
একেকজনের শরীরে চর্বি জমার ধরন একেক রকম। যখন বাড়তি ওজন ঝরানোর চেষ্টা করা হয় তখন সবার আগে শরীরের যে অংশে চর্বি জমেছিল, সেখানে সবার শেষে চর্বি কমে। অর্থাৎ পেট বা মুখের আকার যদি আগে বাড়ে তাহলে ওজন কমানোর চেষ্টায় সবার পরে সেগুলোর আকার পরিবর্তিত হয়।
তবে কিছু পন্থা অবলম্বন করলে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুখের আকৃতি: মুখমণ্ডলের কংকাল মুখের কাঠামো ও ত্বকের কোষের নমনীয়তা নির্ধারণ করে। পেশিস্তরের উপরিভাগ মুখভঙ্গির উপর নির্ভর করে যেমন- মুখ ফোলানো বা ঠোঁট ওল্টানো, হাসা অথবা ভেঙানো। মুখের পেশির উপরিভাগের চর্বির স্তর ত্বকের নমনীয়তা রক্ষা করে। ফলে মুখে টানটান ও তরুণভাব বজায় থাকে।
মহিলাদের মুখে ভারী ও ওজনদার ভাব ফুটে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
মুম্বাইয়ের নন্দন তত্ত্ব ক্লিনিকের কস্মেটোলজিস্ট ড. সাধনা দেশমুখের মতে, “অধিকাংশ মহিলাদেরই চর্বি বহুল মুখমণ্ডল নিয়ে অভিযোগ থাকে। এর জন্য বেশি লবণ, চিনি ও প্যাকেটজাত খাবারকে দায়ী হতে পারে, যা ত্বকে পানি ধরে রাখে।”
অন্যদিকে ভারতীয় ত্বক বিশেষজ্ঞ ড. জয়শ্রী শারাদ বলেন, “কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাদ্যাভ্যাস এর জন্য দায়ী। এছাড়া বয়স বৃদ্ধি, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অবসাদ মুখমণ্ডলের ‘লিগামেন্ট’ ক্ষতির জন্য দায়ী। ত্বকে অতিরিক্ত চর্বি জমে তা মুখের নিচের অংশে ভাঁজের সৃষ্টি করে যা ‘ডাবল চিন’ নামে পরিচিত।”
ঠিকঠাকভাবে খাওয়া ও শরীরচর্চা করা: সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা মুখের আকার পরিবর্তনে জাদুর মতো কাজ বলে জানান পুষ্টিবিদেরা।
ডা. শারাদের মতে, “সপ্তাহে পাঁচদিন কার্ডিও ব্যায়াম, যেমন- দৌড়ানো, হাঁটা বা সাইকেল চালানো ইত্যাদি যেসব ব্যায়ামে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের কাজ বেশি হয় সেগুলো করা মুখমণ্ডলের জন্য ভালো। এটি কসমেটিক পদ্ধতিতে চেহারায় দ্রুত পরিবর্তন আনার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, তাজা ফল, শাকসবজি, বাদাম এবং শষ্যজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। এইসকল খাবারের পুষ্টি উপাদান অন্ত্র পরিষ্কার করতে, যকৃত সুস্থ রাখতে এবং অতিরিক্ত চর্বি বিপাকে সাহায্য করে। ফলে আরামদায়ক ঘুম হয়। শরীরচর্চা করে ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে ডেটক্স প্রক্রিয়া বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার প্রক্রিয়া আরও বেশি ফলপ্রসূ হয়। ত্বকের ছিদ্রের ভারসাম্য ও রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে ঠিক রাখতে শরীরচর্চা করা প্রয়োজন।
পুষ্টিবিদ অঞ্জলি পেশওয়ানি মদ পান করা বাদ দিয়ে দিনে দশ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান যে, অ্যালকোহল শরীরে পানি ধরে রাখে এবং এটি চোখের নিচের ফোলাভাব সৃষ্টি করে।
ধূমপান না করা: ভিটামিন সি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান এই কাজে বাধা দেয়।
লবণ কমানো: সোডিয়াম স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। এটি শরীর থেকে পানি বের করে দেওয়ার পরিবর্তে ধরে রাখে। ফলে দেখতে স্ফীত দেখায়। বোতলজাত খাবার পরিহার করে তাজা ফল খাওয়া উচিত। বাইরে খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে কারণ হোটেলের খাবারে অধিক পরিমাণে লবণ ব্যবহার করা হয়।
ক্যালসিয়াম বাড়ান: উচ্চ ক্যালসিয়াম-জাতীয় খাবার যেমন- পালংশাক, ব্রোকলি এবং তিলের বীজ শরীর থেকে পানির পরিমাণ কমায় ফলে স্ফীতভাবও কমে।
সূত্র: বিডিনিউজ।






