সোয়েব সাঈদ:
রামুতে বড় দুই সহোদরের বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ, বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের ও প্রাণনাশের হুমকী দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছোট দুই সহোদর।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পাঁচটায় রামু বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মৌলভী ছালেহ আহমদ পাড়ার মৃত সুলতান আহমদের চতুর্থ ছেলে নুরুল আজিম ও পঞ্চম ছেলে শাহনেওয়াজ আলম নুর সোহেল।
লিখিত বক্তব্যে তারা তাদের বড় ভাই নুরুল আলম ও নজিবুল আলমের নানা অপকর্ম তুলে ধরে বলেন, এদের অত্যাচারে তারা এখন দিশেহারা, নিরাপত্তাহীন। তাদের বিরুদ্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০০৮ সালে আমাদের বাবা ইন্তেকাল করেন। সেই থেকে আমাদের বড় ভাই নুরুল আলম ও নজিবুল আলম যোগসাজশ করে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ, আমাদের বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়েরসহ আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে আসছে।
বাবার মৃত্যুর পর থেকে মেঝ ভাই নজিবুল আলম সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখাশোনা করে আসছেন। তাদের বাবা ৪টি মিনি ট্রাক, ৪টি বাস, ১টি প্রাইভেট কার, ১টি স মিল, কক্সবাজারস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এশিয়া মোটরস, রামু চৌমুহনীস্থ জিয়া মোটরস, কক্সবাজার হাসেমিয়া মাদরাসা সংলগ্ন ৪ গন্ডা জমি, এন আলম ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন ২ কানি জমি, কলঘর বাজারস্থ নিজস্ব জমিতে ২টি দোকান সহ আরো অনেক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রেখে যান।
এছাড়া ১৯৯৭ সাল থেকে আমাদের ৪র্থ ভাই নুরুল আজিম প্রবাসে বড় ভাই নুরুল আলমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছি। কিন্তু সব ভাই এক থাকার অজুহাতে আমাকে (নুরুল আজিম) কোন বেতন দিতেন না। এমনকি আমাদের নামে দেশে জমি ক্রয়ের কথা বলা হতো। অথচ পরে জানতে পারি আমাদের আয়ের অর্থে বড় ভাই নুরুল আলম ও নজিবুল আলম তাদের নামেই জমি ক্রয় করতেন। কলঘর বাজারের পাশে ১৫ গন্ডা জমি এবং কলঘর এলাকার নুরুল আজিম ও শাহনেওয়াজ এর অর্থায়নে ২০০৫ সাল থেকে চলমান পোল্ট্রি খামারও নজিবুল আলম ও নুরুল আলম জোরপূর্বক ভোগদখল করে রেখেছেন। একারনে তারা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
এছাড়া আমার বাবার রেখে যাওয়া একটি গাড়িও এখন নেই। এসব গাড়ি বিক্রি করে নুরুল আলম ও নজিবুল আলম কক্সবাজার শহরে জমি কিনে বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছে। এমনকি আমার পৈত্রিক বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্রও তারা ওইসব বাড়িতে নিয়ে গেছেন। আমরা পিতার উত্তরসুরি হলেও পিতার এসব সম্পদ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকমারকুল এলাকায় আমাদের পৈত্রিক করাত কল (স মিল) রয়েছে। এটিও নজিবুল আলম জোরপূর্বক একাই দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি এ নিয়ে আমি (নুরুল আজিম) বে-আইনী জোরপূর্বকভাবে স্থাবর সম্পত্তি দখলক্রমে স্থাপিত করাত কল পরিচালনার বিরুদ্ধে ভূমির মালিকের পক্ষে উপযুক্ত আইনানুগ প্রতিকার চেয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রামু উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা অভিযোগটি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ওসি রামু থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে নজিবুল আলম আমাদের বঞ্চিত করে করাত কলটি একাই ভোগদখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুল আলম ও নজিবুল আলমের এসব অপকর্ম টের পেয়ে সম্প্রতি নুরুল আজিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আলম নুর সোহেল এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে পৈত্রিক সম্পদ দাবি করেন। এতে তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে কোন সম্পদ দেবে না এবং সম্পদ দাবি করলে উল্টো তাদের হত্যা, মারধর, এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে হুমকী দেয়।
এরই জের ধরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নজিবুল আলম, নুরুল আলম ও নজিবুল আলমের স্ত্রী নাছরিন সুলতানার নেতৃত্বে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী নুরুল আজিম ও শাহনেওয়াজ আলম নুর সোহেলের বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারিরা তাদের মারধর করে এবং বাড়ির আসবাবপত্র তছনচ করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় নুরুল আজিম বাদি হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার বিজ্ঞ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার নং-সিআর ৩৯। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই’তে তদন্তাধিন রয়েছে।
এদিকে মামলাবাজ ও ভূমিগ্রাসি নজিবুল আলম তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানাকে বাদি করে উল্টো নুরুল আজিমকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার বিজ্ঞ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৩৭/২০১৭। মামলা করার পর থেকেও নজিবুল আলম, নুরুল আলম ও তাদের সহযোগিরা তাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলন নুরুল আজিম ও শাহনেওয়াজ আলম নুর সোহেল জানান, তারা কোন অন্যায় আবদার করছেন না। কেবল তাদের পৈত্রিক সম্পদের ন্যায্য অধিকার আদায় সহ তাদের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে আপামর সাংবাদিক সমাজের মাধ্যমে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সহ সকলের সদয় আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







