হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
ঘুর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে রামুর গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের বিধ্বস্ত প্রাচীন একাডেমিক ভবন পুননির্মাণে এগিয়ে এলেন কক্সবাজার ৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।
তিনি শুক্রবার (২জুন) বিকেল ৫টায় গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ধ্বসে পড়া একাডেমিক ভবন পরিদর্শন করেন এবং ভবনটি পুননির্মাণের জন্য তাৎক্ষনিক ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আরো দুই লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন।
এছাড়াও গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিদ্যালয়ের জন্য এক লাখ টাকা অনুদান প্রদানের নির্দেশনা দেন। সাংসদের নির্দেশনা পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানও এক লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, ‘গর্জনিয়ার বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব হাকিম মিয়া চৌধুরী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে এতদঅঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। ১৯৯১ এর ঘুর্ণিঝড়েও একবার প্রাচীন এই ভবনটি ল-ভ- হয়ে যায়। তখন আমার বাবা সাবেক সাংসদ ও রাষ্ট্রদূত আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ঘরটি পুননির্মাণ করেছিলেন। তাই আমি ঘোষণা দিচ্ছি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ধ্বসে পড়া বিদ্যালয় ভবনটি পুননির্মাণ করা হবে।’
এসময় আরো বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের সদস্য শামশুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিব উল্লাহ চৌধুরী।
সমাবেশ শেষে সাংসদ কমল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএইচএম মনিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিব উল্লাহ চৌধুরী, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আলম সিকদার ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাফেজ আহমদকে নিয়ে বিদ্যালয় ভবনটি পুননির্মাণের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএইচএম মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটি ধ্বসে পড়ার পর থেকে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কারণ বিদ্যালয়ে এমনিতেই শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। এখন এমপি মহোদয় আমাদের সেই চিন্তা দূর করেছেন।’
এরআগে সাংসদ কমল দুপুর ২টায় কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটায় যান। সেখানে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং শতাধিক ক্ষতিগ্রস্থ নারী-পুরুষের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দেন। পরে বিকাল তিনটায় তিনি একই ইউনিয়নের মৌলভী কাটা, কচ্চপিয়া উচ্চবিদ্যালয়, দক্ষিণ মৌলভীকাটা, বিকাল চারটায় তিতারপাড়া, দোছড়ি এলাকায় দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তা দেন। কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি পরিদর্শন এবং অর্থ সহায়তা প্রদান শেষে স্ব-স্ব এলাকায় আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এসময় কমল বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি ছিলো বলেই জেলায় ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় প্রাণহানি কম হয়েছে। তবে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও বসত বাড়িতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারিভাবে সকল সহায়তা দেয়া হবে। যাদের বসত ঘর সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে, তাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। আবার যারা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের ঢেউটিন সহ প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধিন সরকার, জনবান্ধব সরকার। তাই সুখে-দুখে এ সরকার সবসময় জনগনের পাশে থাকে। জনকল্যাণে যা করার তাই করে। ঘূর্ণিঝড় মোরা’র শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকার ক্ষতিগ্রস্থদের মানুষের পাশে রয়েছে। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সহ কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দও কক্সবাজারে এসে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছেন।
রামু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এসব পথ সভায় রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুসরাত জাহান মুন্নী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য শামসুল আলম ও নুরুল হক কোম্পানী, গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, রাজারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান মুফিজ, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ ভূট্টো, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, রশিদনগর ইউপি চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া, এমপির একান্ত সচিব মিজানুর রহমান, ব্যক্তিগত সচিব আবু বক্কর, উপজেলা যুবলীগ নেতা নবিউল হক আরকান’সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






