প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
রামুতে গত কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারনে বন্যা চরম আকার ধারণ করেছে। বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিভিন্নস্থানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধ্বসে বেশ কিছু বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুনিয়াপালং সহ রামুর বিভিন্নস্থানের অন্তত ২০টি স্পটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাঁকখালীর নদীর পানি এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে গেছে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, রামু-মরিচ্যা সড়ক, রাজারকুল-চেইন্দা সড়কসহ প্রত্যন্ত এলাকার আরো অসংখ্য সড়ক। এসব সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মানুষের দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।
রামু-মরিচ্যা সড়কের ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে বেড়িবাধ ভেঙ্গে সড়কে ব্যাপক পানির কারনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।গর্জনিয়া সেতু চরম ঝুঁকিতে আছে। জোড়াতালি দিয়ে কোন মতে চলছে। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
ফতেখাঁরকুল, চাকমারকুল, রাজারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ঈদগড়, রশিদনগর এবং জোয়ারিয়ানালা রামুর এগার ইউনিয়নের সবকটি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই চরম দুর্যোগের সময়ে বন্যা কবলিতদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত ত্রাণ। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন তাদেরও পর্যাপ্ত ত্রাণ দরকার। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যে পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপর্যাপ্ত বলা চলে। তাই ত্রাণ তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিশুরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
এই দুঃসময়ে সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব আছে বলে আমরা মনে করি। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে তাদের দাঁড়ানো উচিত। সেই ধন তো ধন নয়, যেই ধন মানুষের কাজে আসেনি। নিজের অর্জিত ধন-সম্পদ সৎকাজে লাগানোর এটাই তো উপযুক্ত সময়। আর সরকারি এবং যেকোন খাত থেকে পাওয়া ত্রাণ বিতরণে যেন কোন অনিয়ম না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মিলিত চেষ্টায় এই দুঃসময় আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে।







