প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
কক্সবাজারের রামুতে শুভ আষাঢ়ী পুর্ণিমা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ৮ জুলাই পুরো উপজেলাজুড়ে এ পুণ্য তিথিটি পালিত হয়েছে।
মেরংলোয়া কেন্দ্রীয় সীমা বিহার, শ্রীকুল পুরাতন বিহার, লাল চিং, সাদা চিং, মৈত্রী বিহার, হাইটুপী বড় ক্যাং, রাংকুট বনাশ্রম বিহার, ফারিকুল বিবেকারাম বিহার, চাকমারকুল অজন্তা বিহার, উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহার, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, জাদিপাড়া আর্যবংশ বিহার, উখিয়ারঘোনা জেতবন বিহার, দক্ষিণ শ্রীকুল চাংগ্রীমা বিহার, হাজারীকুল বোধিরত্ন বিহারসহ রামুর সকল বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী পুণ্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপাসক-উপাসিকারা ভোরে বুদ্ধপূজা, সকালে অষ্টশীল গ্রহণ, বিকালে ধর্মদেশনা শ্রবণ এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, আষাঢ়ী পুর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পুর্ণিমা পর্যন্ত এই তিনমাস ব্যাপী বৌদ্ধরা দান (ত্যাগ), শীল (চরিত্র গঠন) এবং ভাবনার (চিত্ত সংযমের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে একটি উত্তম সময় কাঠানোর চেষ্ঠায় রত থাকেন। আশ্বিনী বা প্রবারণা পুর্ণিমার পরদিন থেকে বিহারে বিহারে শুরু হয় শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব। এই দান চলে মাসব্যাপী।
আষাঢ়ী পুর্ণিমার বিশেষত্ব হল, এই দিনে রাজকুমার সিদ্ধার্থের মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ, গৃহত্যাগ, সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষুদের কাছে মহামতি বুদ্ধ ধর্মচক্র সূত্র দেশনা বা প্রবর্তন করেছিলেন।
একই তিথিতে শ্রাবস্তীর গন্ডম্ব বৃক্ষমূলে বুদ্ধ প্রতিহার্য ঋদ্ধি প্রদর্শন করেন, এবং মাতৃদেবীকে মহামায়াকে ধর্মদেশনার জন্য বুদ্ধ তুষিতস্বর্গে আরোহণ করেছিলেন।








