প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
আমাদের রামু উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রামু চৌমুহনী স্টেশন। রামুর বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একে রামুর প্রাণকেন্দ্র বিবেচনা করা হয়। কক্সবাজার এবং উখিয়ার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এই স্টেশন থেকে হয়ে থাকে। ছোট-বড় বাস, সিএনজি, মাহিন্দ্রা, জিপ, টমটম, রিক্সাসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন রামুতে চলাচল করে। এদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু এসব গাড়ি পার্কিং এবং রাখার মত পরিকল্পিত কোন ব্যবস্থা দেখা যায়না। ফলে বেশিরভাগ যানবাহন ফুটপাত থেকে শুরু করে মূল রাস্তার উপর পর্যন্ত যত্রতত্র যেনতেনভাবে রাখা হয়। রাস্তার ফুটপাতের উভয়পাশে ভাসমান দোকান গিজগিজ করছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে,এখন পথচারীরা ফুটপাত ধরে হাটার যে সুযোগ ছিল সেটাও নেই। মূল রাস্তা ক্রমশ সরু হয়ে আসায় রাস্তায় প্রায়সময় যানজট লেগে থাকে।
যারা এসব দোকান করে আয়-রোজগার করছেন আমরা তাদের আয়-রোজগারের বিরোধী নই, কিন্তু এটা হতে হবে উপদ্রবমুক্ত। নিজের রোজগার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষদের অধিকার খর্ব করা যাবেনা। এলোপাতাড়ি দোকান বসানো এবং মর্জি মাফিক গাড়ি পার্কিং করা অনেক সময় তাদের পক্ষে সম্ভব হয়না। এক শ্রেণীর লোক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের থেকে মাসোহারা নিয়ে তাদেরকে সুযোগ করে দেন। এটা রীতিমত চাঁদাবাজীও বটে।
স্টেশনের তথা রামুর সৌন্দর্যহানি এবং পথচারীদের দুর্ভোগ কোনটার বিষয়ে তাদের গরজ নেই। তাদের কাছে নিজের স্বার্থ রক্ষা হলেই হল। কিন্তু প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারেননা। জনস্বার্থে প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। রামু কারো একার বাপের সম্পত্তি নয় যে এখানে যার যা ইচ্ছে তাই করবেন।
তবে এটাও ঠিক যে, অনেক সময় প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও সেটা রাজনৈতিক অসহযোগিতার কারণে ভেস্তে যায়। এরপরও প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননা।
আরেকটি সমস্যা হল অপরিচ্ছন্নতা। রাস্তার পাশে কিংবা রাস্তার উপরে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে এবং পথচারীদের চরম অস্বস্থি হয়। নানান উৎস থেকেই এসব আবর্জনা ফেলা হয়ে থাকে। কোন তদারকি এবং কড়াকড়ি না থাকায় পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য বিরোধী এই কাজ দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মাঝেমধ্যে লোক দিয়ে আবর্জনা তুলে নেওয়া সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় নয়। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা এবং বিধিনিষেধ।
আমরা এও বলছি যে, একটি যানজটমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন রামুর জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।






