খালেদ শহীদ, রামু।
রোহিঙ্গাদের জন্য রামুর বৌদ্ধরা রক্তদান করেছেন। কক্সবাজারের রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারে বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচির আয়োজন করে।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিপীড়নের শিকার কক্সবাজার সরকারি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ও অসুস্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচি আয়োজন করা হয়।
রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের এ রক্তদান কর্মসুচির উদ্বোধন করেন।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রক্তদান কর্মসুচিতে নারী, পুরুষ, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের-সবার উচিত। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, এ জন্যে আমরা বাংলাদেশী বৌদ্ধরা নিন্দা জানাই। সাধারণ মানুষের উপর এ ধরণের নিপীড়ন-অত্যাচার চালানা হয়েছে, তা আদৌ বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা নয়, মায়ানমারের সামরিক শাসকের উচিত বুদ্ধের শিক্ষায় মানুষের পাশে থাকা, মানবিকতার পাশে থাকা। রামুর বৌদ্ধরা অসুস্থ ও আহত রোহিঙ্গাদের জন্য রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আমি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মতো এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
রক্ত দিতে আসা গৃহবধু আলোমিতা বড়ুয়া বলেন, রোহিঙ্গারাও আমাদের মত মানুষ। তাদের জন্য রক্ত দিতে পেরে খুব ভাল লাগছে। আমি ১৮ বছর বয়স থেকে স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছি। আজকেও নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য রক্ত দিতে এসেছি। এই পর্যন্ত আমি ২৭ বার রক্ত দিয়েছি।
একই কথা বলেন, রক্ত দিতে আসা শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া, মিঠুন বড়ুয়া, মো. মহিন উদ্দীন মাহিন, শিক্ষার্থী চন্দ্রিমা জ্যোতি বড়ুয়া, আকাশ বড়ুয়া সহ অনেকে।
বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, সবার আগে মানবতা। রোহিঙ্গারাও মানুষ। তাদের জন্য আমরাও ব্যতিত। হাসপাতালে ভর্তি অনেকের জন্য রক্ত প্রয়োজন বলে আমরা কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেনেছি। তাই রক্ত সংগ্রহের জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এই উদ্যোগে অনেকে সাড়া দিয়েছেন। এভাবে সবার এগিয়ে আসা উচিত।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ইউনিট রক্ত সংগ্রহে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়া, নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলার সভাপতি দুলাল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সুনীল বড়ুয়া, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কেতন বড়ুয়া, রামু হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিলোৎপল বড়ুয়া, প্রজন্ম ’৯৫ কর্মকর্তা জন্টু বড়ুয়া, পুলক বড়ুয়া, পূর্ণধন বড়ুয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।








