অনলাইন ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জনগণের কল্যাণে যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। তারা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় তাদের বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দেশের উন্নয়নে ভারতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুই নেতা বিমসটেকের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, তারা পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। বিমসটেকের অন্য সদস্য দেশগুলোও এর মাধ্যমে উপকৃত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-নেপাল :বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তা বাড়াতে একমত হয়েছেন বাংলাদেশ ও নেপালের প্রধানমন্ত্রীরা। চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে কাঠমান্ডু সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বৈঠকে এই সম্মতি এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। বৈঠকে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও এই ইস্যুতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দেওয়া ছাড়াও তারা জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।’
ইহসানুল করিম বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং এই ইস্যুতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেপালের সমর্থন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং জানান, নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে ঢাকা। উভয় দেশের জন্য দুই প্রতিবেশীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, এই অঞ্চল থেকে দারিদ্র্য দূর করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা শুধু আমাদের দেশের উন্নতি চাই না, আমরা চাই আমাদের প্রতিবেশীরাও উন্নত হোক।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া কাঠমান্ডুর সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহায়তার সুযোগ বাড়ানো উচিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরও যোগাযোগ বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসফি বিনতে শামস দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময়ে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়াল, পররাষ্ট্র সচিব শঙ্কর দাস বৈরাগীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ভুটান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক :ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দাসো তাসেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গেও একই স্থানে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব।
ওই বৈঠকে ভুটানের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভুটানের সংবিধান অনুসারে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে আর নতুন সরকার আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শপথ নেবে।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতা। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরালো করারও আশা প্রকাশ করেন তারা। বৈঠকে বাংলাদেশের বিক্রমপুর সফরের কথা স্মরণ করেন ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা।
সূত্রঃ সমকাল






