ক্রীড়া ডেস্কঃ
দুবাইয়ে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। ৩৩ ওভারে ৬ উইকেটে তুলেছে ১৭৫। ৩ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে উদ্ধার করে মুশফিক-মিঠুনের ১৩১ রানের জুটি। ফিফটি পেয়েছেন দুজনই। তবে ভরসা হয়ে আছেন কেবল মুশফিকই

ম্যাচটায় তাঁর খেলা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। পাঁজরের ব্যথা বড় ভোগাচ্ছিল। মুশফিকুর রহিম ব্যথাকে উপেক্ষা করেছেন। সংশয় দূর করে এশিয়া কাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলছেন। ভাগ্যিস খেলছেন! মুশফিক না থাকলে আজ বাংলাদেশের কী যে হতো? শুধু মুশফিকের কথা বলা হচ্ছে, মোহাম্মদ মিঠুনের কথা কেন নয়? বলতে হবে দুজনের কথাই। এ দুজনে সওয়ার হয়ে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার হয়েছে বাংলাদেশ।
সেই উদ্ধারের পর আবার বেপথু বাংলাদেশ। ৪১ রানের মধ্যে নেই ৪ ব্যাটসম্যান! ২ উইকেটে ১৩৪ রানের স্কোরটাকে এখন দেখাচ্ছে ৬ উইকেটে ১৭৫! এখনো ১৭ ওভার বাকি। ব্যাটসম্যান বলতে আছেন কেবল মুশফিক (৮২*)। সঙ্গে মাশরাফি।
বিপর্যয়ও কেমন, প্রথম ওভারেই এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা লাসিথ মালিঙ্গা যেন ক্যারিয়ারের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনলেন। প্রথম চার বল ফোঁসফাঁস, পঞ্চম বলে আউট সুইংয়ের বিষ মিশিয়ে স্লিপে মেন্ডিসের ক্যাচ বানিয়ে লিটন দাসকে (০) ফেরালেন। পরের বলটা আরও দুর্দান্ত। বল বাতাসে হালকা সুইং করিয়েছেন। বলটা যতই দুর্দান্ত হোক, মাত্রই উইকেটে আসা সাকিব আল হাসান হয়তো বেঁচে যেতেন, যদি সোজা ব্যাটে খেলতেন।
প্রায় চার বছর পর গোল্ডেন ডাক মারার অভিজ্ঞতা হলো বাঁ–হাতি অলরাউন্ডারের। বোঝার ওপর শাকের আঁটি হিসেবে যোগ হলো সুরঙ্গা লাকমলের বলে বাঁ–হাতের কবজিতে ব্যথা পেয়ে তামিম ইকবালের মাঠ ছেড়ে যাওয়া। বাঁ–হাতি ওপেনারের চোট এতটাই গুরুতর, তাঁকে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। ২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরটা ছিল বড় ভীতিজাগানিয়া! ৩ রানে ২ উইকেট (পড়তে হবে ৩/৩, তামিমও তো নেই)!
বাংলাদেশ ১০০ রানও করতে পারে কি না, এ সংশয় যখন গাঢ় হচ্ছিল তখন চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-মিঠুনের প্রতিরোধ। চাপ এতটাই জেঁকে বসল, বাংলাদেশ স্বচ্ছন্দে এগোতেই পারছিল না। শ্রীলঙ্কা ফিল্ডারদের হাতটা পিচ্ছিল না হলে বাংলাদেশের ভাগ্যে যে কী লেখা হতো! মালিঙ্গার বলেই ম্যাথুস যখন মিঠুনের ক্যাচটা হাতছাড়া করলেন তখন তাঁর রান মাত্র ১। থিসারা পেরেরার বলে স্কয়ার লেগে দিলরুয়ানের হাত গলে মুশফিক যখন বাঁচলেন, তখন তাঁর রান ১০। প্রথম বাউন্ডারি পেতেই বাংলাদেশের লেগে গেল ৪৮ বল। লাকমলকে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মুশফিক প্রথম চাপ কাটিয়ে ওঠার বার্তা দিলেন। তবুও প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ ২৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি।
শুরুর ধাক্কাটা বাংলাদেশ কাটিয়ে উঠল মুশফিক-মিঠুনের সৌজন্যেই। বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান খোলস থেকে যত বেরিয়ে আসতে শুরু করলেন, চাপ ততই সরে যেতে থাকল। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের রানরেট যেখানে ২.৪, পরের ১০ ওভারে সেটিই হলো ৭.৮। দুজনের ১৩৯ বলে ১৩১ রানের জুটি বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাল বড় স্কোর গড়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন ধাক্কা খেল মালিঙ্গার বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আত্মাহুতি দেওয়ায়। প্রায় ৭ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা মিঠুন লঙ্কান পেসারকে তুলে মারতে গিয়ে কিপার কুশল পেরেরার ক্যাচ হলেন ৬৩ রান করে।
মিঠুন তবুও তাঁর কাজটা করেছেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ আর মোসাদ্দেক কী করলেন? দুজনই স্কোর কার্ডে মাত্র ১টি করে রান যোগ করতে পারলেন। ২ উইকেটে ১৩৪ থেকে চোখের পলকে স্কোর হয়ে গেল ৫ উইকেটে ১৪২। ৮ রানের মধ্যে মিডলঅর্ডারের তিন ভরসা শেষ! মেহেদী মিরাজ এই ভুলের মিছিলে যোগ দেবেন না বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু প্রতিজ্ঞা ছড়ানো তাঁর ১৫ রানের ইনিংসটা শেষ হলো লাকমলের দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে।
কেবল মুশফিক আছেন ভরসা হয়ে। তাঁর লড়াইটা এখনো চলছে। লড়াকু মুশফিকই যদি এ যাত্রা বাংলাদেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন।





