অনলাইন ডেস্কঃ
একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডিত তারেক রহমানের ‘নেতৃত্ব মেনে নেওয়ায়’ কামাল হোসেনকে এক হাত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাদারীপুরে রোববার স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, “আমি কামাল হোসেন সাহেবকে বাহবা জানাই। তিনি আজকে ঐক্য করেছেন। কার সাথে?
“তিনি বড় বড় কথা বলেন দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে। বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসের সাথে সম্পৃক্ত। আজকে তাদের সাথে তিনি ঐক্য করেছেন। আর নেতা মেনেছেন কাকে?”
সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা আসে। সরকারবিরোধী নতুন এই রাজনৈতিক জোটে বিএনপিও যোগ দিয়েছে।
এই জোট গঠনের কয়েকদিন আগেই বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন সাজা দেয় আদালত। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক মুদ্রা পাচারের এক মামলায়ও দণ্ডিত। এছাড়া জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায়ও তিনি সাজাপ্রাপ্ত।
শেখ হাসিনা বলেন, “যে মানি লন্ডারিংয়ে সাজাপ্রাপ্ত, একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং যে পলাতক হিসেবে রয়ে গেছে বিদেশে, তাকেই (তারেক রহমান) বানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
“খুনি, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, দুর্নীতিবাজ, এতিমের টাকা যারা মেরে খায়; আজকে তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছে কে?
“নিজেকে যিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বলেন, একসময় এটা আমরাই দিয়েছিলাম তাকে। সেই কামাল হোসেন গং, তার সাথে জুটেছে আরও কিছু খুচরা আধুলি। এরা সব ঐক্য করেছে। সেই চেয়ারম্যানের অধীনে ড. কামাল হোসেন গং আজকে ঐক্য করেছে।
“আজকে তাই আমি কামাল হোসেনকে সাবাশ জানাই। তিনি আমাদের দল ছেড়ে চলে গিয়ে, নৌকা থেকে নেমে এখন ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন। যে ধানের শীষে শীষ নাই, চিটা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না। সেখানেই তিনি হাত মিলিয়েছেন। অবশ্য এটা করতে পারেন। ওই কামাল হোসেনও কালো টাকা সাদা করেছেন। তারেক জিয়াও করেছে, খালেদা জিয়াও করেছে। রতনে রতন চেনে, শিয়ালে চেনে কচু।
“বড় বড় নীতিবাগীশের কথা বলে যারা, তারাই আজকে ওই খুনিদের সাথে হাত মিলিয়েছে। ওই খুনিদের তো বাংলাদেশের মানুষ চায় না।”
আওয়ামী লীগের এক সময়ের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী কামাল হোসেনের এই জোটে আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যও রয়েছে।
ছাত্রলীগ হয়ে জাসদের এক সময়ের নেতা রব ১৯৯৬-২০০০ সালে শেখ হাসিনার সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। জাসদ-বাসদ হয়ে আসা মান্না এক সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়া শেখ হাসিনা শিবচরের কাঁঠালবাড়ির জনসভায় শেখ হাসিনা উন্নয়নের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে জনগণকে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনে, ২০১৪ এর নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়ী করেছে। কারণ নৌকা মার্কা মানে উন্নয়ন, নৌকা মার্কা মানে মানুষের উন্নতি।
“বিএনপিকে মানুষ ভোট দেয়নি। আজকে তাদের সাথে মরা গাঙে যোগ দিয়েছেন কামাল হোসেন, মান্না, রব এরকম আরও সব। তারা কী করতে চায়? বাংলাদেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। আজকে ৭ দশমিক ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি করে সারাবিশ্বে উন্ননের রোল মডেল।
“মূল্যস্ফীতি কমায় জিনিসপত্র মানুষের হাতের মুঠোয়, আজকে মানুষের আয় বেড়েছে, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে বিশ্ব যেখানে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল মানে সেখানে এরা উন্নয়ন দেখে না।
“তাদের উন্নয়ন হল দুর্নীতির উন্নয়ন, তাদের উন্নয়ন হল সন্ত্রাসের উন্নয়ন, তাদের উন্নয়ন হল অর্থপাচারের উন্নয়ন। মানুষ ভালোভাবে বাঁচবে, ছেলেমেয়রা স্কুলে যাবে, মানুষ কাজ পাবে এটা তাদের কাছে উন্নয়ন না।”
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়কার চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “একাত্তরে জামাত এই দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। ওরা যখনই সুযোগ পায় মানুষকে হত্যা করে।
“এই (বিডিআর) হত্যাকাণ্ড ঘটার পেছনে ওই বিএনপি-জামাতের হাত ছিল। বিডিআরে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা মারা গেছেন। তারমধ্যে ৩৩ জনই আওয়ামী পরিবারের সদস্য। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যে তারা জড়িত এতে কোনো সন্দেহ নাই।”
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও কারাগারে থাকার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
সকালে হেলিকপ্টারে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় গিয়ে পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন (মাওয়া প্রান্ত) করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এন-৮ মহাসড়কের ঢাকা-মাওয়া এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি পরিদর্শন (মাওয়া প্রান্ত), পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন (মাওয়া প্রান্ত), মূল নদীশাসন কাজ সংলগ্ন স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ উদ্বোধন এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

এরপর নদীর জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন এবং জনসভায় যোগ দেন।
জনসভায় বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সময় অবকাঠামো, শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি, চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া কৃষক ও দরিদ্র মানুষের জন্য তার সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।
দেশের সব মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না, কোনো মানুষ অভুক্ত থাকবে না, কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না, কোনো মানুষ চিকিৎসাহীন থাকবে না।
তিনি উপস্থিত জনতার কাছ থেকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি চাইলে সবাই হাত তুলে সম্মতি জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, “এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মানুষ বাংলায় কথা বলার স্বীকৃতি পেয়েছে, স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ।
“আজকে নৌকায় হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির পথ। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা।”
সূত্রঃ বিডিনিউজ





