হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডি বøকের ১৭ তলায় এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন- দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষ জিন্নাত আলীর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের প্রচেষ্টায় সংসদ ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জিন্নাতের স্বাক্ষাৎ হয়। এসময় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জিন্নাতের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেন। পাশাপাশি তাঁর জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
জিন্নাত আলীর (২২) বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল গ্রামে। বৃদ্ধ বাবা আমীর হামজার এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত তৃতীয়। অন্য সবার মতো স্বাভাবিক ছিল জিন্নাতের গড়ন। কিন্তু ওর বয়স যখন ১২ বছর, সে সময় থেকেই দ্রæত উচ্চতা বাড়তে থাকে। প্রতিবছর দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে আকৃতি বাড়তে থাকে। ১০ বছরের মধ্যে প্রায় চার ফুট উচ্চতা বেড়ে জিন্নাত এখন ৮ ফুটের এক মানব।
জিন্নাত আলীর বড় ভাই মো. ইলিয়াস আলীর দাবি, জিন্নাতের উচ্চতা ৮ ফুট ২ ইঞ্চি! দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষ। ভাইয়ের এই উচ্চতার জন্য তিনি গর্বিত নন, বরং অভাব ও দারিদ্র্যের কারণ বলে মনে করেন।
ইলিয়াস আলী বলেন, জিন্নাতের প্রচুর খাবার প্রয়োজন হয়। তাঁকে বাড়িতে সকাল, দুপুর ও রাতের বেলা ভাত দিতে হয়। প্রতিবেলায় এক কেজি চালের ভাত, আর প্রচুর পরিমাণে তরকারি লাগে। কিন্তু আমরা দিতে পারি না।
ইলিয়াস আলী জানান, গ্রামের আশপাশের বেশির ভাগ মানুষ জিন্নাতকে ‘মানুষ’ ভাবে না, ভাবে ‘জন্তু’। এমন কথাই ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান ইলিয়াস আলী। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ঘর থেকেই বাইর হয় না। বাইরে গেলে লোকে খ্যাপায়, খোঁচা দেয়। অনেক দিন পর এবার দুর্গাপূজার দশমীর দিন ভাইরে লইয়া বাইরে যাই। কিন্তু লোকজন ওর দিকেই তাকাইয়া থাকে। এমন কইরা কথা কয়, ঠাট্টা করে যে মনে হয় আমার ভাই জন্তু-জানোয়ার।’
জিন্নাত আলীর শারীরিক সমস্যার আসল কারণ এখন পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেননি। কক্সবাজার, ঢাকায় বহুবার চিকিৎসা করানোর পরও সুফল মেলেনি। ইলিয়াস আলী বলেন, ছয় বছর আগে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়েছিল। তখন বলা হয়, অপারেশন লাগবে। ১২ লাখ টাকা খরচ হবে। অপারেশন না করালে ছয় মাসের বেশি বাঁচবে না। ডাক্তারের কাছে এ কথা শুনে আমি ভাইটারে বাড়ি নিয়ে যাই। কিন্তু ছয় বছর ধরে আমার ভাই তো বাইচ্চা আছে।
ইলিয়াস আলী আরও জানান, ডান পায়ের চেয়ে জিন্নাতের বাঁ পা একটু বেশি লম্বা। এই পায়ের গোড়ালি ফুলে গেছে। পায়ে পানি জমে যাচ্ছে। ব্যথা করে। আমাদের এলাকার এমপি সাহেব (সাইমুম সরওয়ার কমল) বর্তমানে জিন্নাতকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। ঢাকায় নিতেও কষ্ট করতে হয়েছে। ১২৬ কেজি ওজনের জিন্নাতকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা যায় না। চেয়ারকোচে করে নিতে হয়েছে। বাসে তোলার সময় শরীরে ব্যথা লেগেছে।
ঢাকায় নেওয়ার পরও একই বিড়ম্বনা পিছু নিয়েছে জিন্নাতের। দাঁড়ালে লোকজন হাসিঠাট্টা করতে থাকে। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকেন জিন্নাত। তবে ছয় ফুট লম্বা বিছানায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তিনি। দুই পা-হাত গুটিয়েই রাখতে হয় তাঁকে সব সময়।





