অনলাইন ডেস্কঃ
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নেত্রীর জন্য তাদের প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছে।

বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘শিগগিরই’ খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
“কিন্তু তারপর তিন দিন চলে গেছে কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই। আদালতের নির্দেশ ও মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এখনো কার্য্কর হয়নি। আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে প্রতি মুহূর্ত পার করছি উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর অজানা আশঙ্কায়।”
সর্বশেষ ১০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা হওয়ার পর আর অনুমতি মেলেনি বলে জানান রিজভী।
তিনি বলেন, “গত এক মাস ধরে দেশনেত্রীর সঙ্গে তার আত্বীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এত প্রতিহিংসা কেন? আমরাও জেলে গেছি, আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করেছে। প্রতি সপ্তাহে দেখা করার নিয়ম।”
বিএনপি নেত্রীর ক্ষেত্রে কারাবিধি মানা হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এই যে দৃষ্টান্ত এই যে নজির-সব ভেঙে দেশনেত্রীর সাথে তার আত্মীয়-স্বজনের দেখা করার কোনো সময়সীমা নেই। ১৫ দিন, ২১ দিন বা এক মাস অথবা তারও বেশি লাগতে পারে। এটা হচ্ছে সরকারের ইচ্ছার ওপরে।
“কারাবিধির নিয়মে সপ্তাহে একদিন দেখা করার কথা। তার বেলা কোনো কিছুই, কোনো আইন মানা হচ্ছে না।”
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ খালেদার আত্বীয়-স্বজনরা সাক্ষাতের আবেদন করলেও অনুমতি মেলেনি অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “আমাদের দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা গত দুই মাসে বহু চেষ্টা করেও সাক্ষাতের অনুমতি পাচ্ছেন না।
“কারা কর্তৃপক্ষ বার বার একই কথা বলছেন, হাই লেভেল থেকে অনুমতি না পেলে আমাদের কিছুই করার নেই। এই হাই লেভেল কত হাই এটা জনগণ জানতে চায়, আমরা সকলেই জানতে চাই। আমরা জানি এই হাই লেভেল কে? কত উঁচুতে তিনি অবস্থান করছেন সেটা সবাই জানে।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান রেখে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আপনার মনের মতো নির্বাচন তো শেষ। এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন। তার বয়স ও গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাকে কারামুক্ত করুন। কারণ বন্দিশালার চাবি আপনার হাতেই।
“তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ দিন।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের মার্চ মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক। তারপর থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই আছেন তিনি।
কয়েকটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তারেককে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করার কথা বিভিন্ন সময় বলে আসছেন সরকারের মন্ত্রীরা।
সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ বিডিনিউজ





