আবদুল হামিদ, বাইশারী:
আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার দাবিতে নাইক্ষ্যংছড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে । মঙ্গলবার ৯আগষ্ট সকালে উপজেলা সদরের ধুংরী হেডম্যান পাড়া থেকে এ উপলক্ষ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক বর্ণাঢ্য র্যালী শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা হেডম্যান এ্যশোসিয়েশন কার্যালয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
আদিবাসী নেতা চিংসা মং কারবারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন- স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাষ্ট্র পর্যায়ে অর্জিত না হলেও বৈশ্বয়িক পর্যায়ে আদিবাসীদের আন্দোলনের অধিকার অর্জিত হয়েছে।
জাতিসংঘে আদিবাসীদের জন্য স্থায়ী ফোরাম গঠন থেকে শুরু করে ৯ আগষ্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশ পালন করছে। কিন্তু রাষ্ট্র পর্যায়ে এসে আদিবাসীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সাংবিধানিক ভাবে আদিবাসীদের আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা হয়েছে। যার কারণে আদিবাসীরা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাই।
আদিবাসী নেতারা আরো বলেন- গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির জন্য দেশে বর্তমানে মানুষের অধিকার হরণ হচ্ছে। প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলছে জনগণ। বর্তমান সরকারের জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রমকে নেতৃবৃন্দ প্রশংসা করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রমের কারণে সন্ত্রাস প্রতিরোধে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন আদিবাসী নেতারা।
দোছড়ি ইউনিয়ন জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিরাম ত্রিপুরার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওর্য়ার্কের যুগ্ম সম্পাদক মংনু মার্মা। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনসংহতি সমিতির উপজেলা সভাপতি মংমং মার্মা, বাইশারী ইউনিয়ন সভাপতি নিউহ্লামং মার্মা, নারী নেত্রী এচিংনু মার্মা, সোনাইছড়ির নারী নেত্রী নমিতা ত্রিপুরা, থোয়াইক্যচিং মার্মা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জনসংহতি সমিতির ঘুমধুম ইউনিয়ন সভাপতি কিরণ ত্রিপুরা প্রমূখ।






