শংকর বড়ুয়া রুমি:
রামুতে স্থাপিত ‘রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট’ এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্ধ করা টাকা প্রকল্প কাজে ব্যবহার না হওয়ায় ফেরত চলে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোর অবশিষ্ট সংস্কারকাজ, মঞ্চ তৈরী, অফিস সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাব-পত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গত ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করে। কিন্তু ওই অর্থ-বছরের জুনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যাদেশ সম্পন্ন না করায় বরাদ্ধকৃত টাকা মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়।
রামু সদরের ফঁতেখারকূল ইউনিয়নের চেরাংঘাটার বড় ক্যাং সংলগ্ন এলাকায় ২০০৭ সালে নির্মিত হয় ‘রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রামু’ এর ভবন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রায় দেড়-কোটি টাকা ব্যয় করে এই ভবনটি নির্মাণে। নির্মাণের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ভবন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করতে এখনো জনবল নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক অনেককাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিজস্ব জনবল নিয়োগ না হওয়ায় উন্নয়নকাজ সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজের তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক। ওই কেন্দ্রের পরিচালক লীলা মুরং বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে বদলী হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আব্দুর রহমান।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহমান আমাদের রামু কে বলেন, রামুতে প্রতিষ্ঠিত ‘রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট’ এর ভবন নির্মাণকাজ গত ২০০৭ সালে শেষ হলেও জনবল নিয়োগসহ পূর্ণাঙ্গরূপে এখনো চালু করা যায়নি। এখনো প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সংস্কারসহ আনুষঙ্গিক বেশ-কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগসহ প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
“এরই প্রেক্ষিতে গত ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত অবশিষ্ট সংস্কারকাজ, অফিস সরঞ্জাম, মঞ্চ তৈরী, আসবাব-পত্র ও বাদ্যযন্ত্র ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করে। এরমধ্যে গত মধ্য এপ্রিলে বাজেটের অনুকূলে প্রাথমিকভাবে বরাদ্ধ প্রদান করে ৪৪ লাখ টাকা। ”
তিনি আরো বলেন, “কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছি এখন কিছু দিন হয়। এর আগে আরেকজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু গত মধ্য এপ্রিলে বরাদ্ধ আসার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লীলা মুরং বান্দরবানে বদলী হয়ে যান। ফলে রামুর রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অবশিষ্ট সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা ব্যয়ে উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই সরকারি নিয়মানুযায়ী বরাদ্ধকৃত টাকা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফেরত গেছে। ”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আব্দুর রহমান আমাদের রামু কে বলেন, রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অসমাপ্তকাজ শেষ করতে বাজেটের অনুকূলে বরাদ্ধকৃত টাকা ফেরত আনতে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বরাবরে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রাখাইন বুড্ডিষ্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (বিআরবিডব্লিউএ) এর প্রধান উপদেষ্টা উক্যথিন রাখাইন বলেন, রাখাইন ক্ষুদ্র – জাতির গোষ্ঠির জন্য আলাদা সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্টার দাবি দীর্ঘদিনের। এরই প্রেক্ষিতে বিগত ২০০৭ সালে নির্মিত হয় এই প্রতিষ্ঠানটির ভবন। কিন্তু ভবনটি নির্মাণের পর থেকে এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে গেছে। ফলে ভবনটি নির্মিত হলেও রাখাইন সম্প্রদায়ের স্বপ্ন তিমিরেই থেকে যায়।
বিআরবিডব্লিউএ এর কেন্দ্রিয় সভাপতি উমংমটিং রাখাইন বলেন, জনবল নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করতে বিগত ২০১৪ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কক্সবজার সফরে আসলে রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান করেন। পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে গিয়েও মন্ত্রীর কাছে একই দাবি উপস্থাপন করেন।
দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বরাদ্ধ আসা টাকা ব্যয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ না নেয়াকে তিনি দু:খজনক বলে দাবি করেন।
উমংমটিং রাখাইন জানান, রাখাইনদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার রামুতে ‘রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে জমি নিয়ে সংকটে পড়ে। স্থানীয়দের সম্মতিক্রমে রাখাইন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ রামুর চেরাংঘাটা এলাকার বড় ক্যাং এর ৫০ শতক জমি প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু গত ২০০৭ সালে ভবন নির্মাণের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর আর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
জনবল নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি দাবি জানান।







