ক্রাইম রিপোর্টার, আমাদের রামু:
সদস্য অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ছিল বেশ আলোচিত। কারণ নির্বাচনের আগের দিন রাতে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা করা হয়। আর এই হামলার অভিযোগ উঠে আওয়ামীলীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
সেই দিনের হামলায় খুন হন আওয়ামীলীগের সমর্থক ও যুবলীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম। কিন্তু কি অপরাধ করেছিল যুবলীগ কর্মী মঞ্জুরুল আলমের স্ত্রী ও দুই অবুঝ শিশু সন্তান। কেনই বা তারা জীবনের জন্য বঞ্চিত হল স্বামী ও বাবার স্নেহ থেকে এ প্রশ্ন অনেকের। এ নিয়ে সম্প্রতি আমাদের রামু সরেজমিনে গর্জনিয়া ইউনিয়নের অনেকের সাথে কথা বলে।
হামলায় নিহতের স্ত্রী সলিমা খাতুন আমাদের রামু কে বলেন, ‘গর্জনিয়ার নির্বাচনের আগের দিন তথা ২৭ মে রাতে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীকে হত্যা করতে গেছে এমন খবর মাইকে প্রচার হতে থাকলে আমি ও আমার স্বামী ঘর থেকে বের হয়ে আসি। স্কুলমুড়া থেকে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে যাওয় মাত্রই আমরা হামলাকারীদের সামনে পড়ে যাই। তখন তারা মঞ্জুরুলের গলায় নৌকার কার্ড ঝুলানো দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে লোহার রড় ও লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করতে থাকেন।
বিশেষ করে নজরুল, আবদুল মাজেদ সিকদার ও মোজাফ্ফর নির্যাতন চালায় মধ্যযুগীয় কায়দায়।এক পর্যায়ে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় আমার স্বামীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেই তিনি এক দিনের ব্যবধানে মারা যান।’
সলিমা খাতুন আরও বলেন,‘আমি স্বামীর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে চরম বিপদে পড়েছি। প্রভাবশালী আসামিরা মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। হুমকির কারণে ঘর ফেলে ২১ মাস বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান ও শিফাত হোসেন (৪) নামে দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু পুলিশ এখনো প্রভাবশালী এসব আসামিদের ধরেনি। এ নিয়ে কক্সবাজার প্রেসক্লাব কার্যালয়ে গত ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলন করেছি।’
৯ জুন মঞ্জুরুলের স্ত্রী সলিমা খাতুন গর্জনিয়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। সলিমা খাতুন বলেন, ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের সমর্থক ছিলেন তাঁর স্বামী। সৈয়দ নজরুল ও তার অনুসারীদের হামলায় তিনি মারা যান। তাই সৈয়দ নজরুলকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। এখন তিনি মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ভয়ে তিনি দুই শিশুসন্তান নিয়ে এবাড়ি-ওবাড়ি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম আমাদের রামু কে বলেন, ‘আমি মঞ্জুরুলের স্ত্রীকে কখনো দেখিনি। তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি-ধমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।তাছাড়া, মঞ্জুরুল যেদিন হামলার শিকার হয়, তার আগেই আমি হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। আমি গুরুতর আহত অবস্থায় তার উপর কিভাবে হামলা করতে পারি বলেন। মঞ্জুরুলের উপর হামলা হয়েছে সত্য কিন্তু আমি কারা হামলা করেছে তা জানিনা। হামলা যারাই করে থাকুক আমিও এর সঠিক বিচার চাই। হামলাকারীদের খোঁজে বের করা দায়িত্ব পুলিশের।’
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর আমাদের রামু কে জানালেন, এ ঘটনায় এই পর্যন্ত দুইজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও ধরার চেষ্ঠা অব্যাহত আছে। মামলার বাদী মঞ্জুরুলের স্ত্রী সলিমা খাতুনের নিরাপত্তার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।






