কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার মধ্যে রামু একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। রামু উপজেলার এগার ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করেন। পুরাকীর্তি, উৎসব-পার্বন, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে এ উপজেলার সুনাম সুদীর্ঘকালের। তবে শিক্ষা এবং সাহিত্য চর্চায় উন্নতি হয়েছে বটে তা উল্লেখযোগ্য নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে কিন্তু মান্নোয়নের ক্ষেত্রে আমরা এগিয়েছি না পিছিয়েছি তা বিচার বিশ্লেষণ যোগ্য বৈকি।
ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অতীতের ঐতিহ্য এবং গৌরব ধরে রাখতে হবে। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা। এক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতার বিরাট ঘাটতি আছে। ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এ অচলাবস্থা ভাঙ্গতে হবে। এ প্রজন্মকে সাহিত্য, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক জগতে টানার জন্য আরো বেশি বেশি উদ্যোগ নিতে হবে।
এসব কিছু করতে হলে প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া কিছুই অর্জন সম্ভব নয়। সার্বিক উন্নয়নের জন্য উদার, অসাম্প্রদায়িক, সৎ, দক্ষ, জনদরদী এবং দূরদর্শীতা সম্পন্ন প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ‘হঠাও-ঠেকাও’ এবং প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতির পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ এবং সুস্থধারার রাজনৈতিক পরিবেশ কোন এলাকার শান্তি এবং প্রগতির মাপকাঠিও বটে।
সরকার থেকে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বরাদ্দ আদায় করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল প্রাপ্ত বরাদ্দের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। সরকার বা জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে রাজনীতির ছত্রছায়ায় উন্নয়নের নামে লুটপাট ক্রমশ বেড়ে যাবে। এটা নেতৃত্বের ভাল দিক নয়। তাই জবাবদিহিতার প্রয়োজন আছে।
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকার কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেই বরাদ্দ জনগণের সেবায় কতটুকু কাজে লাগানো গেল সেই তথ্য যদি জনগণ জানতে না পারে, তাদেরকে জানানো না হয় কিংবা জনগণ তা জানার চেষ্টা না করেন তাহলে সেক্ষেত্রে লুটপাট, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতি ঝেঁকে বসবেই।
এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বাড়ছে। সম্প্রতি রামুতে চুরি, ডাকাতি, নির্যাতন, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যাকান্ডের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের ছড়াছড়ি।
আমরা লক্ষ্য করছি যে, ইদানিং রামুতে যেসব হত্যাকান্ড ঘটেছে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়নি এবং এসব ঘটনায় দুই-এক জন ছাড়া অন্যদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার আইন শৃংখলা আরো ভেঙ্গে পড়বে।
একথাও ঠিক যে, চুরি, ডাকাতি, নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং জঙ্গিবাদ ইত্যাদি হল এক ধরণের সামাজিক ব্যাধি। এসব ব্যাধি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন সামাজিক গণসচেতনতা।







