গিয়াস উদ্দিন ভুলু , টেকনাফ:
টেকনাফে সেই আলোচিত শিশু হত্যাকান্ডের ৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। অথচ সেই নির্মম হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার পায়নি আলোর পরিবার। প্রতি বছর বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আলোর পরিবার শহীদ আলী উল্লাহ আলোর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করে। কিন্তু এই হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো আলোর পরিবার জানতে পারেনি কেন তাদের এই আদরের ৭ বছরের শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল নর পশুরা? কি দোষ ছিল তার, কি কারণে এই হত্যাকান্ড, কেন অকালে ঝরে গেল একটি তাজা শিশুর প্রাণ! এই সমস্ত প্রশ্বের উত্তর এখনো খুঁজে পায়নি কক্সবাজার জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ।
৭ সেপ্টেম্বর এই দিনটি ছিল শহীদ আলী উল্লাহ আলোর শাহাদাত বার্ষিকী। এই দিনটিকে স্বরন করে প্রতি বছর আলোর পরিবার নানা প্রকার আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় সকাল ১০ টা থেকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকায় বায়তুশ শরফ মোহাম্মদীয় রিয়াদুল জন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শহীদ আলী উল্লাহ আলো স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খতমে কোরআন, খতমের তাহলীল, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা এবং এতিম-মিসকিনদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করে।
পাশাপাশি সকাল থেকে টেকনাফে নাফ নদী উদিয়মান তরুণ এক ঝাঁক শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং এই তরুণ শিল্পীরা শহীদ আলী উল্লাহ আলোর নামে রচিত বেশ কয়েকটি ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে। তাদের এই মধুর সুরের মুর্ছনায় মুগদ্ধ হন অনুষ্টানে আগত অতিথি, শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকার জনসাধারন।
অনুষ্টানের শুরুতে সকাল ৯ টায় খতমে কোরআন, ১০ টায় খতমে তাহলীল, বেলা ১১ টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বেলা ১২ টায় নাফ নদী শিল্পী গোষ্টীর ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকাল ৩ টায় আলোচনা সভা এবং এতিম-মিসকিনদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
পরিশেষে রিয়াদুল জন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মো. জাকারিয়ার পরিচালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক, শহীদ আলী উল্লাহ আলো স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শহীদ আলোর সুযোগ্য পিতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলোর দাদা আলহাজ্ব আলী আহমদ, আলোর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন, টেকনাফের তরুন নেতা ও আলোর ছোট চাচা জিয়াউর রহমান জিয়া, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের টেকনাফ ইনচার্জ মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাইফী, সমাজ সেবা অফিসের কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন প্রমূখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বায়তুশ শরফ মোহাম্মদীয় রিয়াদুল জন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওঃ আমির আহমদ, সহকারি সুপার মাওঃ সাইফুল ইসলাম, সহকারি মাওঃ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, আলোর চাচা আবদুর রহমানসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার সর্বস্তরের জনতা।
এসময় বক্তারা আলোর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, একটি পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য একজন নিষ্পাপ শিশুকে পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এমন হত্যাকান্ডের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত খুনিদের ইন্দনদাতাদের এখনো আটক করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী।
টেকনাফের ইতিহাসে বর্বরোচিত, হৃদয় বিদারক, জগন্যতম ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ড। শহীদ আলী উল্লাহ আলোর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। আলোচনা সভা উল্লেখ্য, গত ২০১১ সনের ৭ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. আবদুল্লাহর শিশুপুত্র ও টেকনাফ বিজিবি স্কুলের ১ম শ্রেনীর ছাত্র আলী উল্লাহ আলোকে ভাড়াটিয়া খুনিরা তার নিজ বাড়ীর কাচারী ঘরে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করেছিল।
এ হত্যাকান্ডের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও হত্যার মূল ইন্দন দাতারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এমনিক ওই অদৃশ্য শক্তি ও হত্যা পরিকল্পনাকারী গডফাদাররা কৌশলে মামলার আসামী সুমনকে জামিনে মুক্ত করে তাকেও হত্যার চেষ্টা করেছিল। আলোর ৫ম বার্ষিকীতে জগন্যতম এই হত্যার বিচার দাবী করেছেন টেকনাফের সচেতন মহল।






