ইমরান হোসাইন:
পেকুয়ায় বনবিভাগের রহস্যজনক নিরবতা আর প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গড়ে উঠছে নিত্য নতুন বসতি। ঘটনাটি ঘঠছে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা পূর্বপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় আহমদ নবী কন্ট্রাক্টর নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কয়েক বছর পূর্বে টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত কালু মিয়ার পুত্র জহির উদ্দিনের কাছ থেকে ২দফায় সাড়ে ৮কানি রিজার্ভ দখলীয় জায়গা খরিদ করেন তিনি। স্বত্ব বিক্রেতা জহির জহির উদ্দিন প্রথম দফায় বেচাকেনা জায়গার দখলও বুঝিয়ে দেন। কিন্তু ২য় দফার জায়গার দখল বুঝিয়ে দিতে তালবাহানার আশ্রয় নেন। এনিয়ে ঊভয়ের মধ্যে মতবিরোধ চরমে পৌঁছালে ক্রেতা ঠিকাদার আহমদ নবী জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত ওই মামলার জের ধরে বিক্রেতা জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করেন। ওই পরোয়ানা সূত্রে জহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে হাজতে পাঠায় পুলিশ। জায়গা বিক্রেতা জহির জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরলে পুনরায় দু’জনে স্বত্ব দখল বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়ান। এসময় জায়গা বিক্রেতা জহির দখল বুঝিয়ে দিতে তালবাহানার আশ্রয় নেন ও ঠিকাদার আহমদ নবীর কাছে বিক্রির আগে অন্য একজনের কাছে বিরোধীয় স্বত্ব হস্তান্তর করে দেওয়ার প্রমান মেলে।
এদিকে, উক্ত বিরোধ মেটানোর আগেই প্রতারক জহির উদ্দিন ফের গোপনে বিরোধীয় জায়গাটি উপজেলার মগনামা এলাকার এক লোকের কাছে বিক্রি করে দখল হস্তান্তর করে দেন। সম্প্রতি ওই বিরোধীয় জায়গার পাহাড়ের মাটি কেটে বসতি নির্মাণ শুরু করে নতুন ক্রেতা। খবর পেয়ে প্রথম ক্রেতা ঠিকাদার আহমদ নবী বাঁধা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্থানীয় বারবাকিয়া বনবিট কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পাহাড়ি ঠিলা কেটে বসতি নির্মাণের অভিযোগ স্বত্বেও এখনো পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বনবিভাগ।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নাকচ করে বলেন, টাকা হলে সব কিনতে পারে কিন্তু বনবিভাগের সংরক্ষিত জায়গা জমি কেনার নিয়ম নাই যেখানে সেখানে নব্য ধনকুবের আহমদ নবী কিভাবে বনবিভাগের স্বত্ব খরিদ দখল করার যুক্তিকতা নাই।
বারবাকিয়া বনবিট কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া আমাদের রামু কে জানান, পাহাড় কেটে বসতি নির্মানের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই বনবিভাগ সরোজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। বনবিভাগের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়। তবে, বিরোধীয় স্বত্বে সার্বক্ষনিক নজরদারী অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।





