সুস্থ থাকতে প্রতিদিন আমলকি খাওয়া ভালো একটি অভ্যাস। আমলকির এমন এমন গুণ রয়েছে যার ফলে আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারি। যদিও আমলকি বারোমাসি ফল নয়, তাই বছর জুড়ে অধিক হারে এগুলো পাওয়া যায় না। তবে পরিমাণে কম হলেও সারা বছরই কম-বেশি আমলকির দেখা মিলে। তাই চাইলেই এই দারুণ অভ্যাসটা আপনি বজায় রাখতে পারেন বছরজুড়ে।
কথায় আছে সুস্থ দেহে, সুস্থ মন। আমাদের সুস্থ দেহের জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয় এক পুষ্টি উপাদান রয়েছে আমলকিতে। সেই পুষ্টি উপাদানের নাম হয়তো অনেকেই জানেন। ভিটামিন সি, আমলকি এই ভিটামিনে ভরপুর। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে ভিটামিন সি। তবে স্বাদের ভিন্নতার কারণে অনেকেই এই চমৎকার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফলটি খেতে চায় না। তিতকুটে স্বাদ হলেও দামে সাশ্রয়ী এই ফল প্রতিদিন অন্তত একটি আমলকি খাওয়া উচিত।
আমলকিতে কী থাকে?
একটি আমলকিতে চার শ তেষট্টি থেকে চার শ পঁয়ষট্টি মিলিগ্রাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড থাকে। আর থাকে খানিকটা আঁশ। অ্যাসকরবিক অ্যাসিডই ভিটামিন সি। একটিমাত্র আমলকিতে এই বিপুল পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে অথচ এই পরিমাণ ভিটামিন সি পেতে হলে কাউকে চারটি কমলা কিংবা দুটি বড় আকারের পেয়ারা খেতে হবে।
পুষ্টিবিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রোজ প্রয়োজন কেবল পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। শিশুদের প্রয়োজন হয় পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ মিলিগ্রাম। তবে এর চেয়ে বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করলেও ক্ষতি নেই। এই ভিটামিন শরীরে জমা হয়ে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
ভিটামিন সি কেন প্রয়োজন?
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য আপনাকে রোজ পর্যাপ্ত আমিষ ও ভিটামিন সি গ্রহণ করতে হবে। ক্ষত সারার জন্যও শরীরের প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভিটামিন সি। ভিটামিন সি খেলে আপনার চুল পড়া কমবে। ত্বকও ভালো থাকবে। খাবারে রুচিও বাড়বে।
নিয়মিত আমলকি খাওয়ার অনেক উপকারিতা
সর্দি-কাশি রোধে
অনেকেই হয়তো জানেন না, সর্দি-কাশি রোধে আমলকি বেশ উপকারি। নিয়মিত এক চামচ আমলকির রস মধু দিয়ে খেলে সর্দি-কাশির প্রকোপ থেকে রেহাই মিলবে।
হজম ক্ষমতা বাড়ায়
আমলকিতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এর রস পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে একইসঙ্গে লিভারও ভালো
চুল পড়া রোধে
আমাদের প্রায় সকলেরই চুল বেশ পছন্দ। তবে অনেকেরই রয়েছে চুল পড়ার সমস্যা। এই চুল পড়া ঠেকাতে কত কিছুই ব্যবহার করেন আপনারা। তবে জানেন কি আমলকির রসে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং প্রোটিন যা চুলের পুষ্টি যোগায়। চুল পড়া রোধ করে।
গর্ভাবস্থায়
গর্ভাবস্থায় হাত ও পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ। আমলকিতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান এ সমস্যার সমাধানে কাজ করে। পাশাপাশি আমলকীতে থাকা প্রচুর পরিমাণে জলীয় উপাদান থাকায় এ ফল শরীরকে হাইড্রেট রাখতেও সাহায্য করে।
দাঁতের ক্ষয় রোধে
মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়া কিংবা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দিতে পারে আমলকী। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ আমলকী দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধেও দারুণ কার্যকরী আমলকী।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে
স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও দারুণ কার্যকরী আমলকী। হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক ভালো রাখার পাশাপাশি এ ফলটি দীর্ঘমেয়াদি সর্দি-কাশি দূর করতেও দারুণ কাজ করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
ত্বকের উজ্জ্বল ভাব বাড়াতে কোলাজেনকে বুস্ট করার পাশাপাশি বলিরেখা, পিগমেনটেশন, পোড়া দাগ, তৈলাক্ত ভাব সহ নানা ত্বকের সমস্যা সমাধানে কার্যকরী এ ফলটি। চুলকে ঘন, রেশমি ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল করতেও জাদুকরী শক্তি রয়েছে আমলকির।
বার্তা২৪.কম







