শুভ আষাঢী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের জন্য একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে মাতৃগর্ভে রাজকুমার সিদ্ধার্থের প্রতিসন্ধি গ্রহণ, ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ এবং ৩৫ বছর বয়সে বুদ্ধত্ব লাভের পর জগতে সর্বপ্রথম সারনাথে ধর্মপ্রচার করেন যেটা ধর্মচক্র প্রবর্ত্তন নামে খ্যাত। এই সবকটি ঘটনা শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে ঘটেছিল।
অপরদিকে শুভ আষাঢী পূর্ণিমা উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৌদ্ধদের তিন মাস ব্যাপী বর্ষাবাস পালন। আজ, ১০ জুলাই, বৃহস্পতিবার শুভ আষাঢী পূর্ণিমা। বিহার ও বৌদ্ধপল্লী গুলোতেও বর্ষাবাস পালনের প্রস্তুতি চলছে। টানা তিন মাসের উপোসথ শীল তথা অষ্টশীল পালনের শুভ উদ্বোধন হচ্ছে আষাঢী পূর্ণিমার উপোসথশীল গ্রহণের মাধ্যমে। তাই নবীন-প্রবীণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মধ্যে একটা প্রীতিভাব বিরাজ করছে।
মূলত, অষ্টমী, অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা দিবসে বুদ্ধপূজা দান, অষ্টশীল গ্রহণ, ধ্যান অনুশীলন এবং সদ্ধর্ম শ্রবণসহ বিভিন্ন পুণ্যকর্মের মধ্য দিয়ে উপাসক-উপাসিকাবৃন্দ একটি পুণ্যময় সময় অতিবাহিত করেন। তাই এই তিন মাস বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।
বর্ষাবাস পালনের বিধান স্বয়ং বুদ্ধের জীবদ্দশায় প্রজ্ঞাপ্ত হয়েছিল। ভিক্ষুসংঘকে কেন্দ্র করেই প্রধানত বুদ্ধ বর্ষাবাস পালনের বিধান প্রজ্ঞাপ্ত করেছিলেন। বর্ষা ঋতুতে ধর্ম প্রচারে দিকে দিকে বিচরণ করা ভিক্ষুদের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল। তাছাড়া পায়ে দলে অনেক ছোট ছোট প্রাণীও মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবুজ ঘাস পদদলিত হয়ে নষ্ট হয়। সর্বত্র পানি আর পানি। সবদিক বিবেচনা করে বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে অনুজ্ঞা দিলেন, “হে ভিক্ষুসংঘ, আমি অনুজ্ঞা করতেছি, তোমরা বর্ষা ঋতুতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে বর্ষাবাস পালন করবে। বুদ্ধের প্রজ্ঞাপ্ত বিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক ভিক্ষুর জন্য বর্ষাবাস পালন বাধ্যতামূলক। যে ভিক্ষু বর্ষাবাস পালন করবেন না তার “দুক্কট” নামে একটা অপরাধ হবে।
এছাড়াও, যে ভিক্ষু নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বর্সাবাস পালন করবেন না তিনি কঠিন চীবর লাভের ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। আবার যে বিহারে কোন ভিক্ষু নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বর্ষাবাস পালন করবেন না সে বিহারে কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানও করা যাবে না।
বর্ষাবাস পালন ভিক্ষুদের জন্য বাধ্যতামূলক হলেও এসময় উপাসক-উপাসিকাবৃন্দ গুরুত্ব সহকারে এই তিন মাস ব্যাপী অষ্টশীল পালনের আন্তরিক চেষ্টা করে থাকেন। বছরের অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এই তিনমাস পর্যন্ত বিহারমুখী হবার চেষ্টা করেন।







